কালীগঞ্জে জমি দখলের চেষ্টা, গাছ কাটা ও মারধরের অভিযোগ
মোঃ মুক্তাদির হোসেন স্টাফ রিপোর্টার:
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বেরুয়া এলাকায় জমির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে জমি দখলের চেষ্টা, গাছ কেটে ক্ষতিসাধন, মারধর ও এক নারীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে ছয়জনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এক প্রতিবন্ধী নারীসহ একই পরিবারের চারজন আহত হয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বেরুয়া গ্রামের মৃত বিল্লাল উদ্দিনের ছেলে নুরু মিয়ার পৈতৃক ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া জমির পাশে জমি ক্রয় করেন মীর সজিবুর রহমান। তারপর অন্যদের সহযোগিতায় জমির সীমানার ভেতরে প্রবেশ করে জমি দখলের চেষ্টা করে আসছেন। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়ে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করেও কোনো সমাধান পাননি। তারই জের ধরে গত ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে ক্রয় সূত্রে জমির মালিক মীর সজিবুর রহমান ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহমেদুল কবির নাইমের নির্দেশে বেরুয়া গ্রামের সামসুদ্দিনের ছেলে রতন মিয়া, মৃত মুকুল হোসেনের ছেলে দেলোয়ার হোসেন, আউলিয়ার ছেলে নাজমুল ও আতা মিয়া দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁর ভোগদখলীয় জমিতে প্রবেশ করে জমিতে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ গাছ কেটে ৮০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করেন। পরে কয়েকজন শ্রমিক দিয়ে সেখানে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। তাদের বাধা দিলে অভিযুক্তরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এ সময় তাঁর প্রতিবন্ধী বোন শরিফা বেগমের জামাকাপড় ধরে টানাহেঁচড়া ও চুলের মুঠি ধরে টেনে তাঁকে আহত করেন। ঘটনার সময় তার ভাইয়ের স্ত্রী খালেদা বেগম প্রতিবাদ করলে এবং নুরু মিয়ার ১৫ বছর বয়সী ভাতিজি আফরিন মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাদের মারধর করা হয়। এতে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও ফোলাজখম হয়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাঁদের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করেন। আহত শরিফা বেগমকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। যার রেজিঃ নং ৮৫৪০/১৫, তারিখ ২২ অক্টোবর ২০২৬ইং। অন্য আহতদের কালীগঞ্জ উপজেলা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। নুরু মিয়া আরও অভিযোগ করেন, জমি দখলের উদ্দেশ্যে প্রভাব খাটিয়ে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। ভবিষ্যতে তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের জানমালের ক্ষতি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তবে অভিযুক্ত আহমেদুল কবির নাইম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সঠিক নয়। আমি জমির কোনো পক্ষ নই। আমি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। একটি মহল আমাকে হেয় করার জন্য আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে আমার কোনো আপত্তি নেই; বরং সহযোগিতা থাকবে।”
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, বক্তারপুর ইউনিয়নের বেরুয়া গ্রামের নুরু মিয়া স্থানীয়দের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। © ২০২৪ - ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
খবরটি কেমন লাগলো?











পাঠকের মন্তব্য
এই খবরে মন্তব্য বন্ধ আছে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।