রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই চারতলা ভবন নির্মাণ, ফতুল্লায় পথচারীদের চরম ঝুঁকি ও দুর্ভোগ
বিশেষ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার দক্ষিণ ভূইগড় (ব্লক-ডি, রোড-৪) এলাকায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নিয়ম-নীতি ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে অবৈধভাবে চারতলা ভবন নির্মাণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভবনটিতে কোনো ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা (সেফটি নেট বা প্রতিরক্ষামূলক বেষ্টনী) না থাকায় চরম ঝুঁকি ও দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় পথচারী ও এলাকাবাসী।
নকশাবিহীন ভবন ও রাজউককে তোয়াক্কা না করার অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফতুল্লার উত্তর ভূইগড় এলাকার ব্লক-ডি-এর ৪ নম্বর রোডে মিজানুর রহমান নামের এক ব্যক্তি নিজ জমিতে চারতলা ভবনের নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। নিয়ম অনুযায়ী যেকোনো বহুতল ভবন নির্মাণের আগে রাজউকের অনুমোদন এবং অনুমোদিত নকশা (প্ল্যান) অনুযায়ী কাজ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, এই ভবনের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করা হয়নি।
এ বিষয়ে ভবনের মালিক মিজানুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি রাজউকের অনুমোদনের বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেন, "এখানে ভবন তৈরি করতে কোনো রাজউকের অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না।
নিরাপত্তাহীন নির্মাণকাজ:ঝুঁকিতে পথচারী ও যানবাহন
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চারতলা ভবনটির নির্মাণকাজ চললেও চলাচলের রাস্তার দিকে কোনো সেফটি নেট বা প্রতিরক্ষামূলক বেষ্টনী দেওয়া হয়নি। এর ফলে উপর থেকে ইট, বালু, সিমেন্ট ও নির্মাণসামগ্রী নিচে খসে পড়ে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী পথচারীরা আতঙ্কের মধ্য দিয়ে যাতায়াত করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভবনটির নিচ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় সারাক্ষণ মাথার ওপর নজর রেখে পথ চলতে হয়, যা অত্যন্ত কষ্টদায়ক ও ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে কোমলমতি শিক্ষার্থী, বয়স্ক ব্যক্তি ও রাতে চলাচলকারীদের জন্য এটি মারাত্মক ফেসাদে পরিণত হয়েছে।
ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর দাবি
স্থানীয় বাসিন্দারা রাজউক, স্থানীয় প্রশাসন ও ফতুল্লা থানা পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন:
"জনবহুল এলাকায় এভাবে নিরাপত্তাহীন অবস্থায় অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অবিলম্বে এই অবৈধ নির্মাণকাজ বন্ধ করে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও আইনানুগ পদক্ষেপ নিতে হবে।
এ বিষয়ে রাজউকের সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের পরিদর্শক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভূইগড় এলাকার সাধারণ মানুষ।









