বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
চলমানশিরোনাম
অপরাধ ও আইন

লামায় জমি দখল চেষ্টা ও ঘুষ দাবির অভিযোগে সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

লামায় জমি দখল চেষ্টা ও ঘুষ দাবির অভিযোগে সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

(বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি: মোঃ নুরুল আলম)

বান্দরবানের লামা উপজেলায় মো. আলমগীর নামে এক ব্যক্তি ও উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আতিকুর রহমানের যোগসাজশে সাড়ে তিন একর জমি জবরদখলের চেষ্টা এবং পক্ষপাতদুষ্ট তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে।
আজ ২০ অক্টোবর ২০২৬ হোটেল আরামবাগের ২য় তলা হল রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান ভুক্তভোগী চিত রঞ্জন বড়ুয়া।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে চিত রঞ্জন বড়ুয়া জানান, বান্দরবান পার্বত্য জেলার লামা উপজেলার ২ নম্বর লামা সদর ইউনিয়নের ২৯৫ নম্বর লামা মৌজার ১৭ নম্বর হোল্ডিংয়ে অবস্থিত ৩ একর ৫০ শতক জমির মালিক তিনি ও তার স্ত্রী কামনা রানী বড়ুয়া। জমিটিতে ফলজ ও বনজ গাছের বাগান সৃজন করে দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন তারা।
ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, মানবিক বিবেচনায় মো. আলমগীর নামের এক ব্যক্তিকে জমিতে সাময়িকভাবে আশ্রয়ের সুযোগ দেওয়া হলে, পরবর্তীতে তিনি জালিয়াতি ও ভূয়া কাগজপত্র বানিয়ে পুরো জমির মালিকানা দাবি করতে শুরু করেন। এ বিষয়ে চিত রঞ্জন বড়ুয়া বান্দরবান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (রাজস্ব) আদালতে ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’-এর ৮ ধারায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন (মামলা নং—১৬/২০২৬, তারিখ—২২ জুলাই ২০২৬)। আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য লামা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দেন। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, “সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর নির্দেশে দায়িত্বপ্রাপ্ত সার্ভেয়ার আতিকুর রহমান সরেজমিনে সঠিকভাবে তদন্ত না করে এবং ভুক্তভোগীদের সাথে যোগাযোগ কিংবা কাগজপত্র যাচাই না করেই বিবাদী মো. আলমগীরের পক্ষে পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদন তৈরি করেন। এর আগে সঠিক প্রতিবেদন দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সার্ভেয়ার আতিকুর রহমান আমার কাছে ৫ (পাঁচ) লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। সেই ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি বিবাদীর সাথে হাত মিলিয়ে এ জালিয়াতিপূর্ণ প্রতিবেদন দাখিল করেন।”

এছাড়া লিখিত বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, বিবাদী মো. আলমগীরের নামে একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং ২ নম্বর লামা সদর ইউপি প্যানেল/ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামের দেওয়া একটি সন্দেহজনক ওয়ারিশ সনদ রয়েছে, যা চরম অসঙ্গতিপূর্ণ।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ভুক্তভোগী চিত রঞ্জন বড়ুয়া প্রশাসনের কাছে কয়েকটি সুস্পষ্ট দাবি জানান:
১. বিরোধপূর্ণ জমির সীমানা ও প্রকৃত অবস্থা নিরপেক্ষভাবে পুনরায় তদন্ত করা।
২. চলমান মামলা নং-১৬/২০২৬-এর সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা।
৩. ঘুষ দাবি ও অনিয়মের অভিযোগে সার্ভেয়ার আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।
৪. মো. আলমগীরের ভুয়া NID ও ওয়ারিশ সনদের সঠিকতা যাচাই করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া।
এ বিষয়ে স্থানীয় জেলা প্রশাসন ও বিচার বিভাগের নিকট দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নিজেদের জমি রক্ষা ও ন্যায়বিচারের আকুল আকুতি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী চিত রঞ্জন বড়ুয়া ও তার পরিবার।

শেয়ার করুন

ফটোকার্ড

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

ডাউনলোড করুন
বিজ্ঞপ্তি
দেশের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম দৈনিক দেশের আয়নার পক্ষ থেকে সকল দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আপনার আশপাশে ঘটে যাওয়া যেকোনো অনিয়ম, দুর্নীতি, হত্যাকাণ্ড, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, মাদক ও জনদুর্ভোগের খবর আমাদের জানিয়ে সহযোগিতা করুন। দৈনিক দেশের আয়না সর্বদা আপনার পাশে। যোগাযোগ: ০১৭১১৩৪৯২৩৭