নারায়ণগঞ্জে অভিনব কায়দায় রাজস্ব ফাঁকি: ফতুল্লার ভূইগড়ে দম্পতির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন গ্যাস চুরির অভিযোগ
বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা:
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন কুতুবপুর ইউনিয়নের ভূইগড় মাতবর বাড়ি এলাকায় অভিনব কায়দায় সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন যাবত অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে মুক্তার মিয়া নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, এলাকার একটি প্রভাবশালী কুচক্রী মহলের প্রত্যক্ষ মদদে তিনি বছরের পর বছর ধরে এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন।
মসজিদের পাশেই তিন তলা ভবনে অবৈধ সংযোগ
তথ্যসূত্রে জানা গেছে, ভূইগড় মাতবর বাড়ি মসজিদ সংলগ্ন (মসজিদের দক্ষিণ পাশে) মুক্তার মিয়ার মালিকানাধীন তিন তলা ভবনে বিগত কয়েক বছর ধরে সরকারি নিয়মকানুন তোয়াক্কা না করে অবৈধ গ্যাস সংযোগ পরিচালিত হয়ে আসছে। সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অভিনব কৌশলে গ্যাস সংযোগটি চালু রাখা হয়েছে।
অভিযানের তথ্য আগে থেকেই ফাঁস!
অভিযোগের বিষয়ে মুক্তার হোসেনের কাছে সরাসরি জানতে চাওয়া হলে তিনি এক বিস্ময়কর দাবি করেন। তিনি জানান, তিতাস বা প্রশাসনের অভিযানের আগেই তিনি বিশেষ উপায়ে গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে অভিযান শেষ হয়ে গেলে পুনরায় তা যুক্ত করে নেন। এ সময় তিনি অহংকারের সাথে বলেন, "আমাকে কেউ কিছু করতে পারবে না।
সাংবাদিকদের সাথে অসদাচরণ ও স্বীকারোক্তি
ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে দৈনিক একুশের সংবাদের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে মুক্তার মিয়া ফোনে স্বীকার করেন যে, তার বাড়িতে দীর্ঘ ২-৩ বছর ধরে অবৈধ গ্যাস সংযোগ রয়েছে। তবে একই সাথে তিনি সাংবাদিকদের সাথে উত্তেজিত হয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
তিনি সাংবাদিকদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, "পুরো এলাকাতেই অবৈধ গ্যাস সংযোগ রয়েছে। আপনারা পুরো এলাকার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করান, তাহলে আমিও করব। আপনারা যা পারেন করেন, আমি দীর্ঘদিন ধরেই এভাবে গ্যাস চালিয়ে আসছি।
মাসোহারা বাণিজ্যের ইঙ্গিত
প্রতিবেদকরা যখন তার কাছে জানতে চান তিনি কার কাছ থেকে বা কীভাবে এই অবৈধ লাইন নিয়েছেন, তখন তিনি কোনো নির্দিষ্ট নাম প্রকাশ করেননি। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, একটি বিশেষ চক্রকে প্রতি মাসে নিয়মিত নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা (মাসোহারা) দিয়েই তিনি এই অবৈধ গ্যাস সংযোগ টিকিয়ে রেখেছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, এ ধরনের অবৈধ গ্যাস সংযোগের কারণে একদিকে যেমন সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে এলাকার বৈধ গ্রাহকরা কাঙ্ক্ষিত গ্যাস চাপ পাচ্ছেন না এবং মারাত্মক দুর্ঘটনা ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। সচেতন মহল অনতিবিলম্বে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। © ২০২৪ - ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
খবরটি কেমন লাগলো?










পাঠকের মন্তব্য
এই খবরে মন্তব্য বন্ধ আছে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।