গাছে বেঁধে যুবককে মারধরের অভিযোগ: রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বনাম ব্যক্তিগত প্রতিশোধের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাগানবাজার ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের হলুদিয়া এলাকায় সাগর নামে এক যুবককে গাছে বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী এম. সাগরের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জের ধরে তার ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে অভিযুক্ত মাসুম হামলার কথা স্বীকার করলেও রাজনৈতিক কারণ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, ২০২৩ সালের একটি ব্যক্তিগত ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই তিনি এ কাজ করেছেন।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সাগর বাজারে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে যান। হলুদিয়া এলাকার পাটোয়ারীর দোকানের সামনে পৌঁছালে অভিযুক্ত মাসুম তাকে ডেকে পাশের একটি স্থানে নিয়ে যান। সেখানে প্রথমে তার নাকে, মুখে ও গলায় এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও থাপ্পড় মারা হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, প্রাথমিক হামলার পর আরও ১৫-২০ জন যুবক ঘটনাস্থলে এসে তাকে একটি আমগাছের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন চালায়। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন বয়স্ক ব্যক্তি ও মুরুব্বি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে হামলাকারীরা তাদেরও ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরার আওতা এড়াতে পরবর্তীতে সাগরকে স্থানীয় একটি মসজিদের পাশের অন্ধকার স্থানে নিয়ে গিয়ে আবারও মারধর করা হয়। পরে স্থানীয় ৩-৪ জন ব্যক্তি তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেন।
ভুক্তভোগী এম. সাগর জানান, তিনি আওয়ামী লীগের একটি শো-ডাউনে অংশ নেওয়ার কারণে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। হামলার সময় তার বিরুদ্ধে রাস্তায় লোকজনকে আটকে টাকা ছিনতাইয়ের মিথ্যা অভিযোগও তোলা হয়, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী বিষয়টি তার মামা খোকন ওয়াহিদকে অবহিত করেছেন এবং এই অন্যায়ের বিচার দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত মাসুম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তিনি নিজেই সাগরকে মারধর করেছেন। তবে এর সঙ্গে রাজনীতি বা ছিনতাইয়ের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি তার। মাসুমের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে একটি মেয়ে-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সাগর ও আরও কয়েকজন তাকে মারধর করেছিলেন। মূলত সেই পুরনো ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই তিনি এই হামলা চালিয়েছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।










