বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
চলমানশিরোনাম
সংবাদ

অনলাইনে ‘কাফেলা’ আতর বিক্রির নামে প্রতারণা: সারাদেশে বিস্তার, প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি

অনলাইনে ‘কাফেলা’ আতর বিক্রির নামে প্রতারণা: সারাদেশে বিস্তার, প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি
প্রিন্ট নিউজ

দেশের আয়না ডেস্ক:

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় অনলাইনভিত্তিক ‘কাফেলা’ নাম ব্যবহার করে আতর বিক্রির আড়ালে সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—বিশেষ করে ফেসবুক লাইভ, পেইজ ও গ্রুপের মাধ্যমে এসব প্রতারণা চালানো হচ্ছে, যেখানে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন ও ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে এসব বিক্রেতারা নিজেদের পণ্যকে “বিশুদ্ধ ও দীর্ঘস্থায়ী সুগন্ধি আতর” হিসেবে প্রচার করে। বিশেষ করে গোলাপ আতরের নামে পণ্য বিক্রি করা হলেও বাস্তবে সেই আতরে কোনো সুগন্ধ পাওয়া যায় না বা তা অত্যন্ত নিম্নমানের। ফলে ক্রেতারা প্রতারিত হয়ে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

এছাড়া, ১,০০০ টাকা বা তার বেশি মূল্যের পণ্য কিনলে “ফ্রি” জায়নামাজ এবং একটি লটারির কুপন দেওয়ার লোভ দেখানো হয়—যা আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ এবং অনেক ক্ষেত্রে দণ্ডনীয় অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। লটারির প্রলোভনে পড়ে অনেকেই অনলাইন প্যাকেজটি ক্রয় করছেন। ফেসবুক লাইভে দাবি করা হয়, একটি আতরের কম্বো প্যাকেজের সঙ্গে উচ্চমানের জায়নামাজ দেওয়া হবে এবং লটারি কুপনের মাধ্যমে ক্রেতারা মোটরসাইকেলসহ বড় পুরস্কার জেতার সুযোগ পাবেন।

কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, সরবরাহকৃত জায়নামাজ অত্যন্ত নিম্নমানের এবং অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার অনুপযোগী। পণ্যের মান নিয়ে অভিযোগ করলে বিক্রেতারা নানা অজুহাতে তা এড়িয়ে যান। এক ভুক্তভোগী জানান, “লটারিতে হোন্ডাসহ বড় পুরস্কার দেওয়ার কথা বলে মানুষকে প্রলুব্ধ করে এসব পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে।” সচেতন মহলের দাবি, এই ধরনের লটারি কার্যক্রম মূলত জুয়ার শামিল এবং এর কোনো সরকারি অনুমোদন নেই—তবুও তা প্রকাশ্যে চালানো হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।

অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ জানাতে গেলে বিক্রেতাদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায় না বলেও জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব প্রতারক চক্র পরিকল্পিতভাবে লাইভ ভিডিওতে চটকদার উপস্থাপনা, ভুয়া রিভিউ এবং সাজানো ক্রেতা প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করে। এতে সাধারণ মানুষ সহজেই বিভ্রান্ত হয়ে পণ্য অর্ডার দেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিদিন এই চক্র লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

🔍 প্রশাসনের ভূমিকা ও করণীয়
সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, অনলাইনভিত্তিক প্রতারণা প্রতিরোধে প্রশাসনের সমন্বিত ও জোরালো পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এসব প্রতারক চক্র দ্রুত শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তদারকি জোরদার করা এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি উঠেছে।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংঘটিত অপরাধ দমনে সাইবার অপরাধ দমন ইউনিটের কার্যক্রম আরও সক্রিয় করার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করেন, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হলে এ ধরনের প্রতারণা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
⚠️ সচেতনতার বিকল্প নেই
প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অনলাইন থেকে পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে ক্রেতাদের সতর্ক থাকা, বিক্রেতার পরিচয় যাচাই করা এবং অস্বাভাবিক অফারের প্রতি সন্দেহপ্রবণ হওয়া উচিত। অনেক সময় কম দামে বেশি সুবিধা দেওয়ার প্রলোভনই প্রতারণার প্রধান কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
📢 সচেতন মহলের দাবি
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে ব্যবসার নামে প্রতারণা সমাজে নৈতিক অবক্ষয়ের ইঙ্গিত দেয়। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব চক্রের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধ করার সাহস না পায়।
📌 উপসংহার:
অনলাইন বাণিজ্যের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে প্রতারণার ঘটনাও বেড়েছে। তাই একদিকে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও কার্যকর অভিযান, অন্যদিকে জনগণের সচেতনতা—এই দুইয়ের সমন্বয়েই প্রতিরোধ করা সম্ভব অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া এই প্রতারণার জাল।
বিস্তারিত আসছে খুব শিগগিরই।

শেয়ার করুন

ফটোকার্ড

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

ডাউনলোড করুন
বিজ্ঞপ্তি
দেশের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম দৈনিক দেশের আয়নার পক্ষ থেকে সকল দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আপনার আশপাশে ঘটে যাওয়া যেকোনো অনিয়ম, দুর্নীতি, হত্যাকাণ্ড, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, মাদক ও জনদুর্ভোগের খবর আমাদের জানিয়ে সহযোগিতা করুন। দৈনিক দেশের আয়না সর্বদা আপনার পাশে। যোগাযোগ: ০১৭১১৩৪৯২৩৭