কিশোরীকে ধর্ষণ-হত্যার ৭ আসামির ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
ফখরুল আলম সাজু
নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে কিশোরীকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ নূরা সহ গ্রেফতার ৭ আসামির ৮ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
০১ মার্চ রবিবার দুপুরে শুনানি শেষে নরসিংদীর ২য় আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসা বাদের আদেশ দেন।
জানা যায়, গত শুক্র ও শনিবার ২ দফায় গ্রেফতার ৭ আসামির ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাধবদী থানার ওসি (তদন্ত) মো. ওমর কাইয়ুম, এসময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।
১ মে রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় তাদের আদালতে তোলা হয়, তবে বাদী পক্ষে স্বপ্রণোদিত হয়ে আইনজীবী আদালতে দাড়ালেও আসামী পক্ষের কোন আইনজীবী দাঁড়ায়নি।
গ্রেফতার কৃত ৭ আসামি হলেন:- নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮), এবাদুল্লাহ (৪০), হযরত আলী (৪০), মো. গাফফার (৩৭), আহাম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫), ইমরান দেওয়ান (৩২) ও মো. আইয়ুব (৩০), আহম্মদ আলী দেওয়ান মহিষাশুড়া ইউপির সাবেক সদস্য ও সদ্য বহিষ্কৃত ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি, এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে এখনো পলাতক ইছহাক ওরফে ইছা (৪০) ও আবু তাহের (৫০)।
গত ১০ ফেব্রুয়ারী নূরার নেতৃত্বে তরুণী আমেনাকে সংঘবদ্ধ ভাবে ধর্ষণ করে, এ ঘটনায় স্থানীয় সাবেক মেম্বার আহম্মদ আলী দেওয়ান বিচার করার দায়িত্ব নেন, তবে অভিযোগ উঠেছে, তিনি অপরাধীদের সঙ্গে রফাদফা করে মোটা অংকের অর্থ আত্মসাৎ করেন এবং কোন বিচার না করেই ঘটনাটি ধামাচাপা দেন, পাশাপাশি ধর্ষিতার পরিবারকে গ্রাম ছাড়তে চাপ প্রয়োগ করা হয়, ঘটনার বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
২৫ ফেব্রুয়ারি বুধবার রাতে বখাটে চক্রটি তরুণী আমেনাকে তার বাবার সামনে থেকেই ছিনিয়ে নিয়ে যায়, পরে তাকে পুনরায় গণধর্ষণের পর নির্মম ভাবে হত্যা করে মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দীর একটি সরিষা ক্ষেতে ফেলে রাখে।
পরে বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা দেখে পুলিশকে জানালে মরদেহ উদ্ধার করে, শুক্রবার বিকেলে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ময়না তদন্তের পর মহিষাশুড়া ইউনিয়নের কোতয়ালিরচর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ কবরস্থানে নামাজে জানাজা শেষে লাশ দাফন করা হয়, হত্যার ঘটনায় আমেনার মায়ের মামলা দায়েরের পর পুলিশ জেলা ও জেলার বাহিরে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি নূরা সহ ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়।









