রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
চলমানশিরোনাম
বিজ্ঞাপনআপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন এখানে।
সংবাদ

আখাউড়ার দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেন পুলিশের ওসি

আখাউড়ার দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেন পুলিশের ওসি
প্রিন্ট নিউজ

ফখরুল আলম সাজু

ব্রাক্ষণবাড়িয়া আখাউড়ারতে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেন পুলিশ।

গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকে আজ সকালেও ফেসবুকে অনেকটা ভাইরাল হওয়া একাধিক ফেসবুক পোস্ট ও অনলাইন রিপোর্টের মাধ্যমে জানতে পারা যায় যে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশনে যাত্রীদের হয়রানি ও ইমিগ্রেশন ওসির ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে আখাউড়ার দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপনআপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন এখানে।

ওই দুই সাংবাদিক হলেন আখাইড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, দৈনিক যুগান্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক ফজলে রাব্বি ও প্রেসক্লাবের সদস্য আরটিভির আখাউড়া প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেন। গতকাল ১২ আগস্ট মঙ্গলবার চাঁদাবাজি ও পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নের অভিযোগে মামলাটি করেছেন আখাউড়া ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুস সাত্তার।

পুলিশের এ মামলা দায়েরের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই এ নিয়ে জেলার সাংবাদিকদের মধ্যে প্রচন্ড ক্ষোভের সঞ্চার হয়, এরপরই এ ঘটনার নিন্দা ও মামলাটি প্রত্যাহারের দাবিতে ফেসবুকে দুই সাংবাদিকের ছবি সহ নানা পোস্ট দেয়া হচ্ছে।

গতকাল রাতে থেকে আজ সকালে আখাউড়ার কয়েকজন সাংবাদিকের সাথে কথা বলে জানতে পারা যায় যে, গত ৪ আগস্ট আরটিভি অনলাইন এবং ৭ আগস্ট দৈনিক যুগান্তরে আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে যাত্রী হয়রাণী ও চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশের ওসি মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তারের ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে দুটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

ওই দুটি প্রতিবেদনে ওসির নেতৃত্বে ইমিগ্রেশন পুলিশের উপ-পরিদর্শক আব্দুর রহিম এবং কনস্টেবল দেলোয়ার হোসেনের ঘুষ গ্রহণ এবং ঘুষের টাকা ভাগ-বাটোয়ারার কথা সবিস্তারে তুলে ধরা হয়।

এরপরই আখাউড়া চেকপোস্টের ওসি আবদুস সাত্তার পত্রিকায় প্রকাশিত দুটি রিপোর্টকে মিথ্যা দাবি করে গতকাল ওই দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে আখাউড়া থানায় আলোচিত মামলাটি করেন।

এ নিয়ে বুধবার সকালে আখাউড়া চেকপোস্টের ওসি আবদুস সাত্তারের সাথে কথা বলে। ওসি আবদুস সাত্তার জানান, ওই দুটি রিপোর্ট সম্পূর্ণ মিথ্যা মূলত আমার কাছ থেকে ওই দুই সাংবাদিক অনৈতিক সুযোগ সুবিধা না পাওয়ার কারণেই ক্ষুব্ধ হয়ে আমার বিরুদ্ধে তথা পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে এ ধরণের ভুয়া রিপোর্ট করেছেন, ওই দুই সাংবাদিকের চাঁদা দাবির প্রমাণপত্র আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। সেজন্যই পুলিশের ভাবমূর্তি রক্ষায় আমি বাধ্য হয়ে মামলাটি করেছি।

তিনি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন,আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণ করতে পারলে, যেকোন শাস্তি মাথা পেতে নেব।
তাই বলে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করতে হবে, এর জবাবে ওসি আবদুস সাত্তার জানান, ওরাতো অনৈতিক ভাবে আমার কাছে টাকা চেয়েছে, এর প্রমাণও আছে, অথচ আমি চাঁদা দেইনি বলে আমার বিরুদ্ধে যা ইচ্ছে মনগড়া তাই তারা লিখেছে। এতে পুলিশ বিভাগ সহ আমার আত্মীয় সজনের কাছেও আমার সম্মানহানি হয়েছে, সেজন্যই উর্ধতন কর্মকর্তাদের অনুমতি নিয়ে এ মামলা করেছি।

এ নিয়ে আজ সকালে দৈনিক যুগান্তরের ষ্টাফ রিপোর্টার সাংবাদিক মোঃ ফজলে রাব্বির সাথে কথা বললে, ফজলে রাব্বি জানান, আমরা পেশাগত দায়িত্ব থেকে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ওসি আবদুস সাত্তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করেছি, যাত্রীদের অভিযোগ পেয়ে সরজমিনে চেকপোস্টে গিয়ে যাত্রীদের অভিযোগের সত্যতা পেয়েই সরজমিন রিপোর্ট করেছি, এখানে মিথ্যার কিছু নেই। সব ডকুমেন্ট আমাদের কাছে সংরক্ষিত আছে।

মূলত পুলিশের এ মামলা হয়রানি মূলক এবং সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা, সেজন্য আমরা অবিলম্বে এই হয়রানি মূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে আজ সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, দৈনিক যায় য়ায় দিনের ষ্টাফ রিপোর্টার বাহার মোল্লার সঙ্গে কথা বললে, তিনি জানান,দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এ ধরণের চাঁদাবাজির মামলা খুবই দু:খজনক।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সহযোদ্ধা জাবেদ রহিম বিজনের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানান জেলার সাংবাদিকেরা এ বিষয়ে সহসাই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবো।

সর্বশেষ এ নিয়ে আমরা কথা বলেছি জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) এহতেশামুল হকের সঙ্গে। এসপি জানান, দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির যে মামলাটি হয়েছে, সেটি একজন পুলিশ কর্মকর্তা করেছেন, তবে এ মামলাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে, সেটির শতবাগ নিশ্চয়তা দিচ্ছি, যদি তদন্তে মামলার সত্যতা পাওয়া না যায়, তাহলে আদালতে সেভাবেই পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে।

মামলাটি নিয়ে পুলিশ ও সাংবাদিকের মধ্যে দুরত্ব সৃষ্টি হতে পারে, এ অবস্থায় বিষয়টির সুন্দর একটি সমাধানে আপনি জেলার সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বসার প্রয়োজনীয় কোন উদ্যোগ নেবেন কিনা, এ প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে তিনি বলেন সাংবাদিকদের মঙ্গল কামনা করে সকলের সহযোগিতা কামনা করলেন।

দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে বর্তমান পরিস্থিতিতে পুলিশের মামলা দায়েরের ঘটনাটি শুধু দু:খজন নয়, খুবই উদ্বেগজনকও বটে, একজন পুলিশ কর্মকর্তা দুজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এমন মামলা করাটা সত্যিই উদ্বেগের আমাদের বিশ্বাস, আখাউড়ার বিভাজিত সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ থাকলে, পুলিশ এ ধরণের মামলা করার কখনও হয়তো সাহস পেত না।

বরং আমার অভিজ্ঞতায় বলতে পারি, বিভাজিত সাংবাদিকদের কারও কারও হয়তো এ মামলার পেছনে ইন্ধনও থাকতে পারে।
এরপরও যদি বিভাজিত সাংবাদিকেরা বর্তমানে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আখাউড়ায় এক মঞ্চে দাঁড়িয়ে এ মামলার বিরুদ্ধে যথাযথ প্রতিবাদ জানাতে পারে এবং পুলিশ সুপারের সাথে বিষয়টি নিয়ে বসতে পারে, তাহলে পুলিশ হয়তো এ মামলা প্রত্যাহার করেও নিতে পারে।

পাশাপাশি জেলার সুপ্রতিষ্ঠিত সাংবাদিক নেতারাও যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিষয়টি নিয়ে জেলার পুলিশ সুপার মহোদয়ের সাথে দেখা করে এর যথাযথ প্রতিকার চান, আমরা বিশ্বাসী, খুব সহসাই এ বিষয়টির সুন্দর একটি সমাধান হবে।

তাই পরিশেষে এ মামলার নিন্দা নয়, এ মামলাটির সমাধানে আখাউড়া ও জেলার ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ সহ মান্যবর পুলিশ সুপার মহেদয়ের সানুগ্রহ সুদৃষ্টি কামনা করছি।

সাংবাদিকই যখন সাংবাদিকের প্রধান শত্রু তখন এ ধরণের মামলাতো হবে।

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। © ২০২৪ - ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপনআপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন এখানে।

খবরটি কেমন লাগলো?

শেয়ার করুন

পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য প্রকাশের আগে যাচাই করা হয়। অশালীন, বিদ্বেষমূলক, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা বিজ্ঞাপনধর্মী মন্তব্য প্রকাশ করা হয় না। মন্তব্যের দায় মন্তব্যকারীর।

    ফটোকার্ড

    ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

    ডাউনলোড করুন
    বিজ্ঞপ্তি
    দেশের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম দৈনিক দেশের আয়নার পক্ষ থেকে সকল দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আপনার আশপাশে ঘটে যাওয়া যেকোনো অনিয়ম, দুর্নীতি, হত্যাকাণ্ড, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, মাদক ও জনদুর্ভোগের খবর আমাদের জানিয়ে সহযোগিতা করুন। দৈনিক দেশের আয়না সর্বদা আপনার পাশে। যোগাযোগ: ০১৭১১৩৪৯২৩৭