বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
চলমানশিরোনাম
আইন-আদালত

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে এসআই আলমগীরের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে এসআই আলমগীরের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
প্রিন্ট নিউজ

​২ লাখ টাকার বিনিময়ে দুই নারী আসামিকে অব্যাহতি ও বাদীর কাছে উৎকোচ দাবি

​স্টাফ রিপোর্টার:

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থানায় কর্মরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলমগীরের বিরুদ্ধে ঘুষের বিনিময়ে মামলার আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া এবং বিচারপ্রার্থী অসহায় বাদীর কাছ থেকে অনৈতিকভাবে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

​প্রাপ্ত মামলার নথিপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদগঞ্জ থানার বাসিন্দা খিজির তালুকদার (৫০) তাঁর পৈতৃক বসতভিটা ও বাগান দখলের চেষ্টা, ফলজ-বনজ গাছ কেটে আনুমানিক ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন এবং মারধরের অভিযোগে বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটির সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো হলো—দণ্ডবিধির ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩৭৯/৪২৭/৫০৬(২)/১০৯।
​অর্থের বিনিময়ে আসামি অব্যাহতি
​মামলার এজাহারে একাধিক আসামির সুনির্দিষ্ট নাম ও অপরাধের বিস্তারিত বর্ণনা থাকা সত্ত্বেও তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আলমগীর অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে এজাহারভুক্ত দুই নারী আসামি—সেলিনা বেগম (৪৫) ও জেসমিন (৩৫)-কে তদন্ত প্রতিবেদন থেকে বাদ দিয়ে দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়, উক্ত দুই আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিনিময়ে প্রায় ২ লাখ টাকার গোপন লেনদেন বা আর্থিক চুক্তি হয়েছে।

​বিচারপ্রার্থী বাদীর কাছেও উৎকোচ দাবি
​শুধু আসামিপক্ষ নয়, মামলার যথাযথ তদন্ত ও আইনি সহায়তার আশ্বাস দিয়ে অসুস্থ ও অসহায় বাদী খিজির তালুকদার (৫০)-এর কাছ থেকেও এসআই আলমগীর ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

​এ বিষয়ে অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত এসআই আলমগীরের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এখন ব্যস্ত আছি, পরে কথা বলব"—এই বলেই ফোন কেটে দেন।

​ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এরশাদ উল্লাহ জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​মামলার বিবরণ ও ভুক্তভোগীদের আকুতি
​মামলার এজাহার অনুযায়ী, বাদী খিজির তালুকদার একসময় পিকআপ ড্রাইভার হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করলেও বর্তমানে তিনি গুরুতর অসুস্থ ও শয্যাশায়ী। পৈতৃক সম্পত্তির গাছপালা কাটতে বাঁধা দেওয়ায় আসামিরা তাঁকে এলোপাথাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক নীলাফুলা জখম করে। পরবর্তীতে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন।

​ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা আক্ষেপ করে বলেন:
​আমরা একদিকে জমিজমা হারিয়ে ক্ষতির শিকার হয়েছি, অন্যদিকে অসুস্থ শরীর নিয়ে বিচারের আশায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আলমগীর টাকার বিনিময়ে আসামিদের বাঁচিয়ে দিচ্ছেন এবং আমাদের মতো অসহায় মানুষের কাছ থেকেও টাকা নিচ্ছেন। আমরা এর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার চাই।

​উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি
​আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্বশীল পদে থেকে এভাবে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে মামলার তদন্ত ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ও এলাকায় তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী এ বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং অভিযুক্ত এসআই আলমগীরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন

ফটোকার্ড

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

ডাউনলোড করুন
বিজ্ঞপ্তি
দেশের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম দৈনিক দেশের আয়নার পক্ষ থেকে সকল দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আপনার আশপাশে ঘটে যাওয়া যেকোনো অনিয়ম, দুর্নীতি, হত্যাকাণ্ড, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, মাদক ও জনদুর্ভোগের খবর আমাদের জানিয়ে সহযোগিতা করুন। দৈনিক দেশের আয়না সর্বদা আপনার পাশে। যোগাযোগ: ০১৭১১৩৪৯২৩৭