ভিক্ষার হাত নয়, আত্মসম্মানের লড়াই ও ছোট্ট দোকানে পান-সিগারেট বিক্রি করে বেঁচে থাকার সংগ্রাম এক বিধবা নারীর
রিপোর্টার শাফায়েত হোসেন
রাজধানীর মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজের সামনে একটি ছোট্ট অস্থায়ী দোকানে পান, সুপারি, জর্দা ও সিগারেট বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন এক অসহায় বিধবা নারী। ভিক্ষার হাত না বাড়িয়ে আত্মসম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার এই সংগ্রামের গল্প হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
ভুক্তভোগী নারী জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন অন্যের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত হওয়ায় আর সেই কাজ করতে পারছেন না। প্রতিদিন ওষুধ খেতে হয়, অথচ আয়ের কোনো স্থায়ী উৎস নেই।
তিনি বলেন, আমি মানুষের কাছে ভিক্ষা চাইতে চাই না। তাই মাত্র দুই হাজার টাকা মূলধন নিয়ে পান, সুপারি, জর্দা ও সিগারেট বিক্রি শুরু করেছি। কিন্তু স্থায়ী দোকান করার সামর্থ্য নেই। তাই মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজ ও শিয়া মসজিদ এলাকার সামনে বসে ব্যবসা করি।
তার অভিযোগ, এলাকার কিছু বাড়ির মালিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তি তাকে সেখানে বসতে বাধা দেন। এতে তিনি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আমি যদি সামর্থ্যবান হতাম, তাহলে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করতাম। আমি তো বাংলাদেশের একজন নাগরিক। তাহলে আমি কোথায় যাব? আমার দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। তারা নিজ নিজ সংসারে আছে। আমি কারও ওপর বোঝা হতে চাই না। শুধু নিজের ওষুধ আর খাবারের খরচ চালাতে চাই।
সরকার ও সমাজের বিত্তবান এবং মানবিক মানুষদের প্রতি আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, আমাকে যদি এই ছোট্ট ব্যবসাটি শান্তিপূর্ণভাবে চালানোর সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে কারও কাছে হাত পাততে হবে না। আমি শুধু সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকতে চাই।
স্থানীয়দের মতে, আত্মসম্মান বজায় রেখে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করা এমন অসহায় মানুষের পাশে সমাজ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মানবিকভাবে দাঁড়ানো










