সাভারে ডিবি পরিচয়ে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে, জিয়া প্রজন্ম দলের নেতা সহ গ্রেফতার-২
ফখরুল আলম সাজু
ঢাকা সাভারে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ১টি বাসায় ঢুকে কয়েক জনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে করা মামলায় জিয়া প্রজন্মদল নেতা ও ১ ছাত্রদল কর্মী সহ ২জনকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।
২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার সকালে সাভার পৌরসভার ব্যাংক কলোনী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়, এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ৪টি স্ট্যাম্প ও ১টি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, জিয়া প্রজন্ম দল, সাভার পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক ও মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় থানার জাফরগঞ্জ এলাকার জামাল হোসেনের ছেলে মোঃ আশরাফুল (২৩), সে বর্তমানে সাভারের মুক্তির মোড় এলাকার বাসিন্দা, ছাত্রদল কর্মী ও মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় থানার জাফরগঞ্জ এলাকার হায়দার আলীর ছেলে মোঃ রাসেল ওরফে রোহান (২২) সে সাভারের ব্যাংক কলোনী এলাকার বাসিন্দা পরে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়।
এর আগে সাভারের বেসরকারি ১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. রাব্বি খান (২৩) বাদী হয়ে ৫ জনের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, তদন্তে প্রাথমিক ভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় মামলা রুজু করা হয়।
অন্যান্য আসামিরা হলেন, সাভার পৌরসভার ব্যাংক কলোনী এলাকার করিম মিয়ার ছেলে আব্দুল্লাহ ওরফে আবুল্লাহ (২২), একই এলাকার মোঃ হিরা (২৪) ও নাজমুল (২০) অভিযুক্তরা প্রত্যেকে ছাত্রদল কর্মী বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, অভিযুক্তরা প্রত্যেকে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত এবং ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে এলাকায় পরিচিত তাঁদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ভাবে বিভিন্ন ব্যক্তিকে নারী দিয়ে ফাঁসানো, মাদক ব্যবসায়ী ও ফ্যাসিস্ট আখ্যা দিয়ে ভয়ভীতি দেখানো এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের গ্রেফতারে এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা, একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে অসুস্থ বন্ধু সঞ্জয় মণ্ডলকে দেখতে তাঁর সাভার পৌরসভার কাজী মোকমাপাড়া এলাকার বাসায় যান মামলার বাদী মো. রাব্বি খান (২৩) রাত সোয়া ৯টার দিকে রাসেল ওরফে রোহান ওই বাসায় গিয়ে দরজায় খোলার জন্য নক করেন, পরে তাঁর সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে বাসায় প্রবেশ করেন।
সূত্রে আরো জানা যায়, বাসায় ঢোকার পর তাঁরা বিভিন্ন জিনিস পত্র তল্লাশি করেন এবং রাব্বি ও তাঁর বন্ধুদের ভয়ভীতি দেখান, একপর্যায়ে তাঁদের মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয় এবং জনপ্রতি এক লক্ষ টাকা করে দাবি করা হয়।
এ সময় আশরাফুল কোমর থেকে ১টি সুইচ গিয়ার চাকু বের করে জিম্মি করে প্রাণনাশের হুমকি দেন, পরে বাদী ও তাঁর বন্ধু রাকিব মিয়ার কাছ থেকে ৪টি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়, ওই স্ট্যাম্পে তাঁদের কাছ থেকে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
পরে রাব্বিকে ছাড়িয়ে নিতে তাঁর চাচাতো ভাই জাকির ও বন্ধু জুনায়েদ সেখানে গেলে তাঁদের কাছেও মোটা অংকের টাকা দাবি করেন, এরপর ভুক্তভোগীরা এটিএম বুথ থেকে ২০ হাজার টাকা তুলে এবং সঙ্গে থাকা আরও ৯ হাজার টাকা সহ মোট ২৯ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করে অভিযুক্তরা।
এ ছাড়া বাদীর মুঠোফোনের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা এবং তাঁর বন্ধু সঞ্জয়ের নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে ৮০০ টাকা এবং সঞ্জয়ের প্রবাসী আত্মীয়ের পাঠানো ১টি মোবাইল ফোন সহ আরও ১টি ফোন হাতিয়ে নেয় মামলার আসামিরা।
এ ঘটনায় রাব্বি খান ৫ জনের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় মামলা করেন, পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার ২ আসামিকে গ্রেফতার করেন, তাঁদের কাছ থেকে ৪টি স্ট্যাম্প ও ১টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, মামলার ১ ও ২ নম্বর আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে, এবং তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে, অন্য আসামিদের গ্রেফতারের জন্যও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।









