নবীগঞ্জে নাবালিকাকে নিয়ে পলায়ন: রুস্তমপুর টোলপ্লাজায় 'প্রেমিক যুগল' আটক, ভুয়া বিয়ের দাবিতে লঙ্কাকাণ্ড
নবীগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার রুস্তমপুর টোলপ্লাজা এলাকায় ১৪ বছর বয়সী এক নাবালিকাকে নিয়ে পালানোর সময় জনতার হাতে আটক হয়েছে আবুল কাশেম মোহন (২৪) নামে এক যুবক। গতকাল সোমবার দুপুরে চলন্ত সিএনজি থেকে ওই নাবালিকা লাফিয়ে পড়লে বিষয়টি জনসম্মুখে আসে এবং চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার সূত্রপাত হয়। জানা যায়, শেরপুর সাদীপুর এলাকার ইব্রাহিমপুর গ্রামের আব্দুল মতলিব মিয়ার ছেলে আবুল কাশেম মোহন (২৪) পানিউমদা তেতৈয়াপাড়ার মোঃ আদম আলীর ১৪ বছর বয়সী নাবালিকা মেয়ে ইমা আক্তারকে কলেজ যাওয়ার নাম করে ফুসলিয়ে নিয়ে আসে। দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে রুস্তমপুর গ্রামে পানিউমদাগামী একটি চলন্ত সিএনজিতে তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেললে লোকলজ্জার ভয়ে ওই নাবালিকা গাড়ি থেকে লাফিয়ে নামে। এসময় স্থানীয় জনতা ও উপস্থিত সংবাদকর্মীদের সন্দেহ হলে তারা তাদের চ্যালেঞ্জ করেন। আটকের পর যুবক মোহন ও ওই নাবালিকা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী বলে পরিচয় দিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করে। এমনকি তারা 'কোর্ট ম্যারেজ' করেছে বলেও দাবি করে, যার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। সিএনজি চালক নিজেকে ওই ছেলের বন্ধু ও অভিভাবক দাবি করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলে উপস্থিত জনতার সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। খবর পেয়ে নাবালিকার বাবা-মা ঘটনাস্থলে এসে মেয়ের এমন কর্মকাণ্ডে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং অভিযুক্ত মোহনের বিরুদ্ধে কঠোর বিচারের দাবি জানান। একপর্যায়ে দেবপাড়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার বশির আহমদের উপস্থিতিতে দীর্ঘক্ষণ বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনা চলে। মোহনের পরিবারের উগ্র আচরণের মুখে একপর্যায়ে অসহায় বাবা-মা মেয়েকে ত্যাজ্য করার সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে মোহনের বড় ভাই ও তার এলাকার লোকজনের জিম্মায় ওই নাবালিকাসহ মোহনকে হস্তান্তর করা হয়। একজন ২৪ বছর বয়সী যুবক কীভাবে ১৪ বছরের এক স্কুলপড়ুয়া নাবালিকাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে আসার সাহস পায়, তা নিয়ে এলাকায় তীব্র সমালোচনা চলছে। সচেতন মহল মনে করছেন, বাল্যবিবাহ ও ফুসলিয়ে নেওয়ার এই ঘটনায় মোহনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন ছিল। ভুয়া বিয়ের দোহাই দিয়ে পার পেয়ে যাওয়া এই যুবকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন এলাকাবাসী।










