সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপনআপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন এখানে।
চলমানশিরোনাম
বিজ্ঞাপনআপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন এখানে।
সংবাদ

ধর্ম অবমাননায় সমান শাস্তির বিধান চায় বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোট

ধর্ম অবমাননায় সমান শাস্তির বিধান চায় বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোট
প্রিন্ট নিউজ

ফখরুল আলম সাজু:

সব ধর্মের অবমাননার জন্য সমান আইন ও শাস্তির বিধান করাসহ চার দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোট।

শুক্রবার (১০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) এক সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে এই দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিদ্যমান সব ধর্মের অবমাননা রোধে সুস্পষ্ট আইন প্রণয়ন ও সকল ধর্মের অবমাননার বিচারের ক্ষেত্রে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করার দাবিতে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোট এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে চার দফা দাবি তুলে ধরেন জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোটের সভাপতি প্রদীপ কান্তি দে।

চার দফা দাবি হলো :

১. সব ধর্মের অবমাননার জন্য সমান আইন ও শাস্তির বিধান করতে হবে।

২. ধর্ম অবমাননার অজুহাতে কোনো গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িক হামলা চালালে তাদের জন্য শাস্তির বিধান করতে হবে।

৩. বিগত সময়ে ধর্ম অবমাননার অজুহাতে যেসব সংখ্যালঘু এলাকায় হামলা হয়েছে, সেগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির বিধান করতে হবে।

৪. অতীতে কথিত ধর্ম অবমাননার মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত সবাইকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের কেন্দ্রীয় প্রধান প্রতিনিধি "প্রসেনজিৎ কুমার হালদার" বলেন বাংলাদেশ ধর্ম অবমাননা যেনো নিত্য নৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছু হলেই ধর্ম অবমাননার অজুহাতে একটি গ্রাম ধ্বংস ও লুটপাটের গ্রামে পরিণত হয়। তিনি বলেন সকল ধর্মই শান্তির ধর্ম আর সকল ধর্মই সুখ ও শান্তির কথা বলে। কোন ধর্মে বলা নেই অশান্তির কথা। তিনি বলেন ধর্ম অবমাননার কোন আইন না থাকলেও বাংলাদেশে ধর্ম অবমাননার জন্য নির্দিষ্টভাবে কোনও পৃথক আইন নেই, তবে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির একটি ধারা (ধারা ২৯৫এ) ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা নিষিদ্ধ করে এবং এই অপরাধের জন্য শাস্তি হিসাবে জরিমানা ও কারাদণ্ড হতে পারে। এছাড়া, সরকারের কাছে আপত্তিকর বা নিন্দামূলক সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করার এবং প্রকাশ নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা রয়েছে। তাই সকল ধর্ম অবমাননার জন্য সুস্পষ্ট আইন প্রনয়ন-বাস্তবায়ন ও আন্ত:সম্পর্ক গড়ে তুলে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করতে হবে।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন আইন শুধু একমুখী হলে হবে না। কারো বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ আসলে আগে সেটা আইনের মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্ত করে শাস্তি প্রদান করতে হবে। নিরীহ কোন ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্র আবু সায়েম সনাতন ধর্ম নিয়ে বাজে মন্তব্য করলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল ও বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট থেকে প্রতিবাদ' ভিসি মহোদয়কে জানানো ও আইন প্রশাসনকে অবগত করা হলেও এখনও অব্দি কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। পাশাপাশি এবার শারদীয় দুর্গা পূজা সুষ্ঠু ভাবে উৎযাপিত হওয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সেই সাথে বলেন পূজা সুষ্ঠু ভাবে উৎযাপিত হলেও পূজার পরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ তৈরি করার ব্যবস্থা করছেন বলে মনে করেন। কারণ সন্মানিত স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তার মতো দায়িত্বশীল জায়গা থেকে ৭৯৩ টি পূজা মন্ডবের তালিকা করে মহিষাসুরের দাঁড়ি গোঁফ নিয়ে টানাটানি করছেন। তিনি এই পূজা মন্ডবগুলোকে নির্দিষ্ট করে তদন্তের কথা বলেন। তিনি কি সনাতনী ধর্ম সম্পর্কে জানেন বা আগে কখনো পূজা দেখছেন যে তিনি তার মতো দায়িত্বশীল জায়গা থেকে এমন কথা বলেন। বিগত পূজা দেখলে তিনি মহিষাসুরের দাঁড়ি নিয়ে কথা বলতেন না। কারণ বিগত পূজা গুলোতে দাঁড়ি ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি মনে করেন দাঁড়ি কোন ধর্মের সিম্বল হতে পারে না। আমাদের মহাপুরুষ ও ঋষিদের জীবনে পড়লে জানতে পারবেন তাঁদের দাঁড়ি ছিলো কিনা ও মহিষাসুর ধ্যানের ফলে বর পেয়ে শক্তিশালী হয়ে ওঠেন। তিনি যখন ধ্যানে মগ্ন তখন কি তিনি দাঁড়ি গোঁফ কাটছিলেন। তাহলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এমন মন্তব্য আসলে সমাজের ও দেশের জন্য ক্ষতিকর। তিনি এমন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। কারণ তিনি চান হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান এক সাথে মিলে বসবাস করতে ও একে অপরের সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করতে। তিনি চান প্রকৃত অর্থে একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ।

সংবাদ সম্মেলনে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় আন্তঃধর্মীয় সংলাপের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলা হয়, নিয়মিত বিরতিতে সকল ধর্মীয় নেতৃস্থানীয়দের মধ্যে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ এ ক্ষেত্রে আমাদের মধ্যকার অবিশ্বাস দূর করে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় করতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোটের সাধারণ সম্পাদক রাজেশ নাহা, বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের প্রতিনিধি প্রসেনজিৎ হালদার, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের পেশাজীবী সম্পাদক সুকুমার রায়, হিন্দু ছাত্র মহাজোটের সাবেক সভাপতি সজীব বৈদ্য, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক রাজিব সাহা, হিন্দু যুব মহাজোটের সমন্বয়ক পঙ্কজ হালদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মাধব দাস, ঢাকা মহানগর হিন্দু যুব মহাজোটের সভাপতি রমেন হালদার প্রমুখ।

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। © ২০২৪ - ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপনআপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন এখানে।

খবরটি কেমন লাগলো?

শেয়ার করুন

পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য প্রকাশের আগে যাচাই করা হয়। অশালীন, বিদ্বেষমূলক, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা বিজ্ঞাপনধর্মী মন্তব্য প্রকাশ করা হয় না। মন্তব্যের দায় মন্তব্যকারীর।

    ফটোকার্ড

    ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

    ডাউনলোড করুন
    বিজ্ঞপ্তি
    দেশের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম দৈনিক দেশের আয়নার পক্ষ থেকে সকল দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আপনার আশপাশে ঘটে যাওয়া যেকোনো অনিয়ম, দুর্নীতি, হত্যাকাণ্ড, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, মাদক ও জনদুর্ভোগের খবর আমাদের জানিয়ে সহযোগিতা করুন। দৈনিক দেশের আয়না সর্বদা আপনার পাশে। যোগাযোগ: ০১৭১১৩৪৯২৩৭