সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপনআপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন এখানে।
চলমানশিরোনাম
বিজ্ঞাপনআপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন এখানে।
সংবাদ

ফেনী ছাগলনাইয়াতে মাফুজ–সোহাগের ত্রাস: বাংলাবাজারে দিনরাত ভয়ের রাজত্ব

ফেনী ছাগলনাইয়াতে মাফুজ–সোহাগের ত্রাস: বাংলাবাজারে দিনরাত ভয়ের রাজত্ব
প্রিন্ট নিউজ

স্থানীয়দের আর্তনাদ“পুলিশ নীরব, আমরা অসহায়”

ফেনী প্রতিনিধি:

ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার বাংলাবাজার এখন এক ভয়ংকর নামের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন— এক সময়ের আওয়ামী ঘনিষ্ঠ দুই ব্যক্তি মাফুজ আলম (৩৬), পিতা: জহিরুল ইসলাম এবং সোহাগ আলম (৩৯) জাহাঙ্গীর আলম এখন এলাকায় নতুন রূপে সন্ত্রাসের সম্রাট হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞাপনআপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন এখানে।

এক সময় তারা ছিলেন ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
কিন্তু আওয়ামী শাসন পতনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থেকে তারা এখন বিএনপি-পন্থী নেতাদের ছত্রছায়ায় আবারও প্রকাশ্যে এসেছে—আর এসেছে আরও হিংস্র, আরও বেপরোয়া রূপে।

স্থানীয় দোকানদার ও সাধারণ মানুষদের অভিযোগ,
“ওরা এখন দিনের আলোয় চাঁদা তোলে, রাতে দোকানপাটে হামলা চালায়। কেউ কিছু বললে তাকে মারধর করে বা মিথ্যা মামলায় জড়ায়।”অনেকে জানান, তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করতে গেলেও পুলিশ লিখিত অভিযোগ নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
একজন ভুক্তভোগী বলেন,

“আমরা থানায় গিয়েছিলাম, কিন্তু ডিউটি অফিসার সোজাসাপ্টা বলে দিল—‘ওদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ গ্রহন করা হবে না।’ পুলিশের এমন অনৈতিক সহযোগিতায় এখন আমরা পরিবার নিয়ে ভয়ে থাকি।

মাফুজ ও সোহাগ বর্তমানে বিএনপি সমর্থিত কিছু প্রভাবশালী নেতার ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বিএনপি
রাজনীতির আশ্রয়ে তারা এখন নতুনভাবে অপরাধ সাম্রাজ্য গড়ে তুলছে।
আওয়ামী শাসনামলে তারা ছিল ‘ক্ষমতার দাপটে ভয়ংকর’, তারা এখন বিএনপি-পন্থী পরিচয়ে আরও ভয়ংকর হয়ে উঠেছে।

এক স্থানীয় প্রবীণ নাগরিক বলেন,
“সরকার পাল্টেছে, কিন্তু অত্যাচারীদের পরিচয় পাল্টেছে মাত্র। চরিত্র ঠিকই আগের মতো রয়ে গেছে।”

বর্তমানে বাংলাবাজার এলাকায় সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গেই দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।
ব্যবসায়ীরা বলেন, “রাতে ওরা যখন টহল দেয়, তখন রাস্তায় কেউ থাকে না।”
নারীরা সন্ধ্যার পর ঘর থেকে বাইরে বের হন না, শিশুদের স্কুলে পাঠাতেও ভয় পান অভিভাবকরা।
এলাকার মানুষ বলছেন—
“আমরা রাজনীতি বুঝি না, আমরা শুধু শান্তিতে বাঁচতে চাই।”

ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তাদের বক্তব্য—
“যদি এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে বাংলাবাজার পরিণত হবে সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়ে।”

বাংলাবাজারের পরিস্থিতি স্থানীয় প্রশাসনের জন্য এক বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যেখানে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটায়, সেখানে পুলিশ যদি নিরব দর্শকের ভূমিকা নেয়—তাহলে আইনের শাসন কোথায়?
এই পরিস্থিতি অবিলম্বে তদন্ত করে দোষীদের গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।
জনগণের নিরাপত্তা রক্ষাই প্রশাসনের মূল দায়িত্ব—এখনই পদক্ষেপ না নিলে বাংলাবাজারে অরাজকতা আরও গভীর হবে।

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। © ২০২৪ - ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

খবরটি কেমন লাগলো?

শেয়ার করুন

পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য প্রকাশের আগে যাচাই করা হয়। অশালীন, বিদ্বেষমূলক, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা বিজ্ঞাপনধর্মী মন্তব্য প্রকাশ করা হয় না। মন্তব্যের দায় মন্তব্যকারীর।

    ফটোকার্ড

    ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

    ডাউনলোড করুন
    বিজ্ঞপ্তি
    দেশের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম দৈনিক দেশের আয়নার পক্ষ থেকে সকল দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আপনার আশপাশে ঘটে যাওয়া যেকোনো অনিয়ম, দুর্নীতি, হত্যাকাণ্ড, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, মাদক ও জনদুর্ভোগের খবর আমাদের জানিয়ে সহযোগিতা করুন। দৈনিক দেশের আয়না সর্বদা আপনার পাশে। যোগাযোগ: ০১৭১১৩৪৯২৩৭