চৌদ্দগ্রামে মাদক কারবারে বাধা দেওয়া বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা-ভাংচুর নগদ টাকা, স্বর্ণাঙ্কার সহ দামি মালামাল লুটপাট, ভুক্তভোগির থানায় মামলা দায়ের
কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদক সেবক ও বেচাকেনায় বাধা প্রদান করায় ক্ষিপ্ত হয়ে মো. মেহেদী হাসান প্রকাশ রাসেল (৩৫) নামে এক ব্যবসায়ীর বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দফায় দফায় হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার সহ দামি মালামাল লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ন্যাক্কারজনক হামলার এ ঘটনার সাথে জড়িতদের বেশিরভাগ লোকই স্থানীয়ভাবে মাদক কারবারে জড়িত বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের কাদঘর গ্রামে। সংবাদ পেয়ে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগি ব্যবাসায়ী মেহেদী হাসান বাদী হয়ে ঘটনার মূলহোতা একই এলাকার মৃত আব্দুর রহিম এর ছেলে আহম্মদ উল্লাহ (৩৬), মৃত বশির আহমদ এর ছেলে জাহিদ হাসান (৩৫) ও মৃত সৈয়দ আহমদ এর ছেলে মো. রাহাত (৩০) এর নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাতনামা আরও ২৫/৩০ জনের নামে রবিবার (০৪ অক্টোবর) চৌদ্দগ্রাম মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ।
থানায় দায়েরকৃত মামলা সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন পূর্বে উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের কাদঘর গ্রামের কতিপয় মাদক কারবারি কর্তৃক স্থানীয় কামাল হোসেন নামে এক নিরীহ লোককে বেধড়ক মারধর করে ও একই সাথে তারা তার গরুটিও চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনা জানাজানি হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে চোরাই গরুটি উদ্ধার করে নিজ হেফাজতে নেয়। পরে পুলিশ গরুর প্রকৃত মালিকের নিকট গরুটি হস্তান্তরও করে। গরু উদ্ধারের ঘটনায় পুশিলকে সহযোগিতার সন্দেহের বশবর্তী হয়ে স্থানীয় মাদক কারবারি উল্লেখিত অভিযুক্তরা গত ২৯ সেপ্টেম্বর বিকালে ব্যবসায়ী মো. মেহেদী হাসান এর দোকানের সামনে এসে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করতে থাকে। এ সময় হঠাৎ করে অভিযুক্ত আহম্মদ উল্লাহ, জাহিদ হাসান ও রাহাত সহ তাদের অপরাপর সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে এসে অতর্কিতভাবে মেহেদী হাসানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। এ সময় তারা দোকানের ২টি ফ্রিজ, ২টি অ্যালুমিনিয়ামের র্যাক সহ দোকানের সকল কিছু ভাংচুর করে এবং মালামাল নষ্ট করে। এতে বাধা দিলে তারা ওই ব্যবসায়ীকেও বেধড়ক মারধর ও রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় হামলাকারীরা দোকানের ক্যাশে থাকা নগদ পঁয়তাচল্লিশ হাজার (৪৫,০০০/=) টাকা, দোকানের দামি মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ওই ব্যবসায়ীর অন্তত আড়াই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। পরদিন ৩০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় একই কায়দায় উল্লেখিত হামলাকারী ও তাদের অপরাপর সহযোগিরা ব্যবসায়ী মেহেদী হাসানের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরে থাকা দামি আসবাবপত্র ভাংচুর করে, ঘরের আলমিরাতে থাকা নগদ ২ লাখ টাকা, চার লক্ষাধিক টাকা মূল্যের প্রায় আড়াই ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার সহ ঘরে থাকা দামী মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় হামলাকারীরা ব্যবসায়ী মেহেদী হাসানের স্ত্রী শারমিন আক্তারকেও মারধর করে এবং তার পরিহিত কাপড়-চোপড় টেনে হিচড়ে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে। পরে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় এ ঘটনায় আহত ব্যবসায়ী মেহেদী ও তার স্ত্রী শারমিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। রবিবার এ দুটি ঘটনায় ভুক্তভোগি ব্যবসায়ী বাদী হয়ে হামলাকারী আহম্মদ উল্লাহ, জাহিদ হাসান ও মো. রাহাত সহ অজ্ঞাতনামা আরও ২৫/৩০ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা দায়েরের পর আসামী ধরার ব্যাপারে থানা পুলিশ বেশ তৎপর রয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।
সরেজমিন পরিদর্শন ও স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত আহম্মদ উল্লাহ ও জাহিদ হাসানের নেতৃত্বে একটি কিশোর গ্যাং চক্র দীর্ঘদিন যাবৎ এলাকায় ত্রাসের রাজস্ব কায়েম করেছে। অভিযুক্ত জাহিদ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত থাকার ফলে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে একাধিকবার মাদক নিরাময় কেন্দ্রে রাখা হলেও তার মধ্যে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। সে তার স্ত্রী-সন্তানদের উপর অমানবিক নির্যাতন করার পরে তার স্ত্রীও তার বিরদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় জাহিদ দীর্ঘদিন জেলও খাটেন। এছাড়া এ চক্রটি মাদক সেবন ও বেচাকেনা, চুরি-ছিনতাই, রাহাজানি, স্কুলগামী নারী শিক্ষার্থীদের ইভটিজিং করা সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত রয়েছে। তাদের অত্যাচারে এলাকার সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। বিগত কয়েক মাসে তাদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী সোচ্চার ভূমিকা পালন করায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ধারাবাহিকভাবে এলাকার অসহায় প্রতিবাদী মানুষদেরকে টার্গেট করে বিভিন্ন অত্যাচার-জুলুম করা সহ নানান হয়রানি করে আসছে। এ চক্রের সদস্যরা প্রায় প্রতিদিনই এলাকায় কোনো না কোনো বিশৃঙ্খল কর্মকান্ড করে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এদের দমনে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন স্থানীয়রা। অবিলম্বে তাদের গ্রেফতার করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, শুভপুর ইউনিয়নের কাদঘর গ্রামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়িতে হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগি ব্যবসায়ী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আসামিদের আটকের ব্যাপারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।










