নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া: টিয়ারসেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ, আহত অর্ধশতাধিক
মোঃ আরিফুল ইসলাম:
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে বিক্ষোভরত গার্মেন্টস শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শতাধিক রাউন্ড টিয়ারসেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে পুলিশ ও শ্রমিকসহ অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে সন্ধ্যায় সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বকেয়া বেতন ও বিভিন্ন দাবিতে গার্মেন্টস শ্রমিকরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে কিছু কারখানার উসকানিদাতা শ্রমিক অন্যান্য কারখানার শ্রমিকদের সংগঠিত করে প্রায় ১০ হাজারের মতো শ্রমিক একত্র করে সড়কে অবস্থান নেয়। এতে করে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন পথচারীরা।
খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জের শিল্প পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ উসকানিদাতাদের চিহ্নিত করে সাধারণ শ্রমিকদের আলাদা করার চেষ্টা করলে আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষে আন্দোলনকারী শ্রমিক ও পুলিশের ১০-১২ জন সদস্যসহ অর্ধশতাধিক লোক আহত হন।
নারায়ণগঞ্জ শিল্প পুলিশ-৪ এর পুলিশ সুপার জানান, "যেসব কারখানার তথ্য আমাদের কাছে ছিল, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ যৌথভাবে সেসব প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে। কারখানাগুলোর শ্রমিকরা আমাদের আশ্বস্ত করেছিল যে তারা কোনো ধরনের সহিংসতা বা আন্দোলনে নামবে না। কিন্তু কিছু কারখানার উসকানিদাতা শ্রমিক সাধারণ শ্রমিকদের একত্র করে সড়কে অবস্থান নেয়। আমরা উসকানিদাতাদের আলাদা করতে এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখতে শতাধিক টিয়ারসেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করতে বাধ্য হই।"
তিনি আরও জানান, এই সংঘর্ষে ১০-১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এছাড়া ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ৪ থেকে ৫ জন আন্দোলনকারীকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং লিংক রোডে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। © ২০২৪ - ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
খবরটি কেমন লাগলো?











পাঠকের মন্তব্য
এই খবরে মন্তব্য বন্ধ আছে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।