বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপনআপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন এখানে।
চলমানশিরোনাম
বিজ্ঞাপনআপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন এখানে।
জেলা /স্থানীয়

কলাপাড়ায় স্বর্ণের দোকানের কর্মচারী কৃষ্ণ কোটি কোটি টাকার স্বর্ণ চুরি ঘিরে নানা অভিযোগ

কলাপাড়ায় স্বর্ণের দোকানের কর্মচারী কৃষ্ণ কোটি কোটি টাকার স্বর্ণ চুরি ঘিরে নানা অভিযোগ

রিপোর্টার শাফায়েত হোসেন:

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় দীর্ঘদিন একটি স্বর্ণের দোকানে কাজ করা কৃষ্ণাকে ঘিরে স্বর্ণ আত্মসাৎ, আর্থিক লেনদেন, সম্পদের উৎস এবং ব্যবসায়িক বিরোধের একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে ঢাকা থেকে একটি অনুসন্ধানী দল টানা দুই দিন মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করেছে। অনুসন্ধানকালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, তাঁর পরিবারের সদস্য, অভিযোগকারী এবং স্থানীয় কয়েকজনের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে স্বর্ণের দোকান থেকে গয়না নেওয়া, বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেন, সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন এবং ব্যবসায়ী সুমনের পরিবারের সঙ্গে বিরোধ। পাশাপাশি কৃষ্ণার বিরুদ্ধে আরও কিছু গুরুতর অভিযোগ করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। তবে এসব ঘটনার স্বর্ণের দোকানে চুরি করার সিসিটিভি ফুটেজ গণমাধ্যমের হাতে রয়েছে । তাই অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই জরুরি।
বাড়িতে অনুসন্ধানী দলের উপস্থিতি, পরিবারের আপত্তি
অনুসন্ধানের দ্বিতীয় দিনে কৃষ্ণার বক্তব্য নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাঁর বাড়িতে যান ঢাকা থেকে আসা অনুসন্ধানী দলের সদস্যরা। এ সময় কৃষ্ণার মা বাড়ির ভিডিও ধারণের বিষয়ে আপত্তি জানান এবং কেন সাংবাদিকেরা সেখানে এসেছেন, তা জানতে চান। কৃষ্ণার স্ত্রীও সাংবাদিকদের উপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলে অনুসন্ধানী দলের সদস্যরা জানান।

বিজ্ঞাপনআপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন এখানে।

সাংবাদিকেরা নিজেদের পরিচয় দিয়ে বলেন, কৃষ্ণার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করাই তাঁদের উদ্দেশ্য। একপর্যায়ে কৃষ্ণার স্ত্রী ফোন করে কৃষ্ণাকে বাড়িতে আসতে বলেন। পরে কৃষ্ণা সেখানে উপস্থিত হলে তাঁর সঙ্গে বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করা হয়।

এ সময় স্থানীয় গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত একজন সাংবাদিকের সঙ্গেও ফোনে কথা হয় অনুসন্ধানী দলের। অনুসন্ধানী সাংবাদিক মোঃ শাফায়েত হোসেনের পরিচয় জানার পর তিনি বিষয়টি শোনেন এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগের কথা বলেন। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী ঘটনাস্থলে আসেন। তাঁরা অনুসন্ধানী দলের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানতে চান এবং পেশাদারভাবে তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
২০০৬ সাল থেকে স্বর্ণের কাজ, আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন 
অনুসন্ধানী সাংবাদিক শাফায়েত হোসেনের প্রশ্নের জবাবে কৃষ্ণা জানান, তিনি ২০০৬ সাল থেকে স্বর্ণের কাজের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় চার বছর পর তিনি দক্ষ কারিগর হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং দীর্ঘদিন সুমনের বাবার স্বর্ণের দোকানে কর্মরত ছিলেন।

কৃষ্ণা জানান, স্বর্ণের কাজ করে তিনি প্রতি মাসে আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আয় করতেন।

তাঁর আয়ের উৎস সম্পর্কে জানতে চাওয়ার পাশাপাশি বাড়ি, জমি এবং অন্যান্য সম্পদ কীভাবে অর্জন করেছেন, সে বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়। অনুসন্ধানী দলের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে তিনি অন্যের বাসায় ভাড়া থাকতেন বলে দাবি করা হয়েছে। এ অবস্থায় পরবর্তী সময়ে তাঁর সম্পদ অর্জনের আর্থিক উৎস কী ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে কৃষ্ণার বক্তব্য, তিনি ধারদেনা করে এবং বিভিন্ন আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পদ গড়েছেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর নিজস্ব জমির আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা। অন্যদিকে, তাঁর নামে একাধিক ফ্ল্যাট ও অন্যান্য সম্পদ থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সেগুলো নিজের বলে স্বীকার করেননি। তাঁর বক্তব্য, কিছু সম্পদ তাঁর বোন ও বোনজামাইয়ের।

এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, ক্রয়মূল্য এবং অর্থের উৎস নির্ধারণে জমির দলিল, নিবন্ধনসংক্রান্ত নথি, আয়কর রিটার্ন ও অন্যান্য আর্থিক তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
স্বর্ণের গয়না নেওয়ার অভিযোগ, কৃষ্ণার বক্তব্য ভিন্ন
সুমনের পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের কর্মসম্পর্ক ও বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে কৃষ্ণা বিভিন্ন সময় দোকান থেকে স্বর্ণ ও রুপার গয়না নিয়ে গেছেন। অভিযোগের মধ্যে স্বর্ণের চেইন, রুপার গয়না, কানের দুলসহ বিভিন্ন সামগ্রীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কৃষ্ণার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, দোকান থেকে তিনি শুধু একজোড়া কানের দুল নিয়েছিলেন, যার মূল্য প্রায় 55 হাজার টাকা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনার জন্য তিনি দোকানমালিকের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং তাঁকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছিল।

এ বিষয়ে দোকানের হিসাবপত্র, স্বর্ণের মজুতসংক্রান্ত নথি, সিসিটিভি ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা গেলে অভিযোগের প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট হতে পারে।
প্রায় ২৫ লাখ টাকার লেনদেনের অভিযোগ
স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুমনের পরিবারের সঙ্গে কৃষ্ণার আর্থিক লেনদেন নিয়েও বিরোধের কথা জানা গেছে। সুমনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, কৃষ্ণার সঙ্গে লেনদেন ও দোকানের স্বর্ণের হিসাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা চলছিল।

এ ছাড়া স্থানীয় এক নারী দাবি করেছেন, কৃষ্ণার কাছে তাঁর প্রায় ২৫ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। ওই নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, একাধিকবার টাকা ফেরত চেয়েও তিনি সমাধান পাননি। তবে এই অর্থ লেনদেনের সময়, শর্ত, প্রমাণপত্র এবং টাকা গ্রহণের প্রকৃত কারণ কিছু অনুসন্ধান গণমাধ্যমের হাতে প্রমাণ রয়েছে কৃষ্ণ বিরুদ্ধে ,

কৃষ্ণার বড় বোনের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর স্বামীর কাছ থেকেও কৃষ্ণা বিভিন্ন সময় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে নিয়েছেন। তাঁর ধারণা, সব মিলিয়ে এই অর্থের পরিমাণ প্রায় এক থেকে দেড় লাখ টাকা হতে পারে।

অন্যদিকে, সুমনের কাছে ২৫ লাখ টাকা দেওয়ার অর্থের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে কৃষ্ণার বড় বোন দাবি করেন, তাঁরা ধারদেনা করে এবং স্ট্যাম্পের মাধ্যমে লেনদেনের ব্যবস্থা করে টাকা দিয়েছেন।

এসব বক্তব্যের মধ্যে অসংগতি থাকলে তা নিরসনে সংশ্লিষ্ট স্ট্যাম্প, ব্যাংক লেনদেনের তথ্য, টাকা গ্রহণের রসিদ এবং সাক্ষীদের বক্তব্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
স্বর্ণের দোকান থেকে নেওয়া গয়না বিক্রির বিষয়ে প্রশ্ন
অনুসন্ধানের সময় কৃষ্ণার কাছে বরিশালের স্বর্ণপট্টিতে স্বর্ণ বিক্রির বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। অনুসন্ধানী দলের প্রশ্ন ছিল, তিনি বিভিন্ন সময় যে স্বর্ণ বিক্রি করতে যান, সেগুলোর প্রকৃত মালিক কে এবং কীভাবে সেগুলো তাঁর কাছে আসে।

জবাবে কৃষ্ণা দাবি করেন, তাঁর ও তাঁর বোনজামাইয়ের দোকানে গ্রাহকেরা স্বর্ণ দেন। তাঁরা সেগুলো বিক্রি করে গ্রাহকদের প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করেন।

তবে এসব স্বর্ণের মালিকানা, ক্রয়-বিক্রয়ের রসিদ, সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের পরিচয় এবং লেনদেনের হিসাব যাচাই করা যায়নি। ফলে স্বর্ণগুলো বৈধভাবে কেনাবেচা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট স্বর্ণ ব্যবসায়ী, ক্রেতা এবং বিক্রেতাদের বক্তব্য নেওয়া জরুরি।
সম্পদ কার, নথি যাচাইয়ের দাবি
কৃষ্ণা তাঁর কিছু সম্পদের মালিকানা বোন ও বোনজামাইয়ের বলে দাবি করলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত নথিপত্র অনুসন্ধানী দলের সামনে উপস্থাপিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। অন্যদিকে, তাঁর নামে বা পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক ফ্ল্যাট থাকার অভিযোগও অনুসন্ধানে আলোচনায় এসেছে।

এসব সম্পদের আনুমানিক মূল্য দুই থেকে তিন কোটি টাকা হতে পারে বলে অনুসন্ধানী দলের কাছে তথ্য এসেছে। তবে সম্পদের সংখ্যা, বাজারমূল্য, মালিকানা ও অর্থের উৎস সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য দলিল যাচাই ছাড়া এই সম্পত্তির  কার অনুসন্ধানে চলমান রয়েছে। 

অনুসন্ধানের পরবর্তী পর্যায়ে জমি ও ফ্ল্যাটের দলিল, নিবন্ধন নথি এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক তথ্য যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ব্যবসায়ী সুমনের পরিবারের অভিযোগ

স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুমনের পরিবারের অভিযোগ, কৃষ্ণার সঙ্গে দীর্ঘদিনের কর্মসম্পর্কের কারণে তাঁর ওপর আস্থা রাখা হয়েছিল। পরিবারের দাবি, এই আস্থার সুযোগ নিয়ে দোকানের স্বর্ণ ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

সুমনের পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, বিরোধের একপর্যায়ে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া সুমনের প্রায় পাঁচ বছর বয়সী শিশুকে সড়কের এক পাশ থেকে অন্য পাশে ডাকার ঘটনাকে কেন্দ্র করেও প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে কৃষ্ণার বক্তব্য, তিনি শিশুটিকে রাস্তার অন্য পাশ থেকে ডাকতে চেয়েছিলেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, এভাবে শিশুটিকে ডাকা তাঁর উচিত হয়নি।

শিশুটিকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, সিসিটিভি ফুটেজ, কোনো লিখিত অভিযোগ এবং প্রাসঙ্গিক তদন্তের তথ্য প্রয়োজন। নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া ঘটনাটিকে হত্যাচেষ্টা হিসেবে চূড়ান্তভাবে বর্ণনা করা সমীচীন নয়।
১৯৫৭ সাল থেকে স্বর্ণের ব্যবসা, সুনাম ক্ষুণ্নের আশঙ্কা
সুমনের পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের পূর্বপুরুষ ১৯৫৭ সাল থেকে স্বর্ণের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের আস্থা ও সুনামকে ভিত্তি করে তাঁদের ব্যবসা পরিচালিত হয়ে আসছে।

পরিবারের দাবি, সাম্প্রতিক বিরোধের কারণে তাঁদের ব্যবসা ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তবে ব্যবসায়িক বিরোধের পেছনে কী ঘটেছে, কার কত টাকা পাওনা রয়েছে এবং দোকান থেকে কোনো স্বর্ণ আত্মসাৎ করা হয়েছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য হিসাবপত্র, লেনদেনের নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের সমন্বিত যাচাই প্রয়োজন।
বিএনপির এক নেতার নাম উল্লেখ, বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে ,
অনুসন্ধানের সময় কৃষ্ণা দাবি করেন কিছু রাজনীতির নাম ব্যক্তি বর্গদের নাম ব্যবহার করত তাকে শোনা যায়।

এ ছাড়া কৃষ্ণার বর্তমান ব্যবসায়িক অবস্থান একটি রাজনৈতিক নেতার বাড়ির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করে অনুসন্ধানী দল। ফোন করা হলেও তিনি কল গ্রহণ করেননি বলে দলটি জানিয়েছে।

কৃষ্ণার রাজনৈতিক পরিচিতি বা কোনো নেতার সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকার অর্থ এই নয় যে ওই নেতা তাঁর কথিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং নির্ভরযোগ্য প্রমাণ অপরিহার্য।

অনুসন্ধানী দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট নেতার সঙ্গে আবারও যোগাযোগ করে তাঁর বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
মাদক ও ডাকাতির পরিকল্পনা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ
কৃষ্ণার বিরুদ্ধে মাদক সেবন, বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিয়ে আবাসিক হোটেলে যাতায়াত এবং ডাকাতির পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও তুলেছেন কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, স্বর্ণের দোকান থেকে বিভিন্ন গয়না ও সামগ্রী সম্পর্কে ধারণা কাজে লাগিয়ে অন্যের বাড়ি লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনা।

একটি হোটেলের ব্যবস্থাপক দাবি করেছেন, কৃষ্ণা পাশের একটি হোটেলে কয়েকবার গিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কৃষ্ণার সঙ্গে কয়েকজন নারী-পুরুষও থাকতেন।

তবে হোটেলে যাতায়াত করা বা একসঙ্গে কয়েকজনের উপস্থিতি নিজে থেকে কোনো অপরাধের প্রমাণ নয়। সেখানে মাদক সেবন, ডাকাতির পরিকল্পনা কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার মতো স্বাধীন প্রমাণ এখনো যাচাই করা যায়নি।

হোটেলটির ব্যবস্থাপক সিসিটিভি ফুটেজের বিষয়ে জানান, নির্দিষ্ট তারিখ ও সময় জানা গেলে ফুটেজ খুঁজে দেখার চেষ্টা করা যেতে পারে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের সিসিটিভি ব্যবস্থায় সাধারণত ১৫ দিনের বেশি ফুটেজ সংরক্ষিত থাকে না।

এসব অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ
অনুসন্ধানের সময় কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা কৃষ্ণা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন, টাকা নিয়ে কাজ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি এবং পাওনা অর্থ ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ করেছেন।

তবে এসব অভিযোগের প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, কত টাকা লেনদেন হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য কী, তা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। কৃষ্ণা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠে এসেছে,

অনুসন্ধানী দল জানিয়েছে, অভিযোগকারীদের কাছ থেকে লিখিত বক্তব্য, লেনদেনের প্রমাণ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি সংগ্রহ করা গেলে বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট হবে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুমনের বাবা বর্তমানে দেশের বাইরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পরিবার জানিয়েছে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি অনুসন্ধানী দলের সঙ্গে কথা বলতে পারেননি।

তাঁর বক্তব্য নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে অনুসন্ধানী দল। কারণ, কৃষ্ণা দীর্ঘদিন তাঁর দোকানে কাজ করেছেন বলে দাবি করেছেন এবং দোকানের স্বর্ণ ও আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত অভিযোগগুলোর একটি বড় অংশ তাঁর ব্যবসাকে কেন্দ্র করেই উঠেছে।

সুমনের বাবার বক্তব্য, দোকানের হিসাবপত্র এবং সংশ্লিষ্ট নথি পাওয়া গেলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের সুযোগ বাড়বে।
দুই দিনের অনুসন্ধানে কৃষ্ণাকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ, পাল্টা বক্তব্য এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে প্রশ্ন সামনে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের কিছুটা প্রমাণসহ গণমাধ্যমের হাতে রয়েছে।

এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, স্বর্ণের দোকানের হিসাবপত্র, সম্পত্তির দলিল, আর্থিক লেনদেনের নথি, প্রাসঙ্গিক সিসিটিভি ফুটেজ প্রমাণ হওয়ায় এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন সুমন ।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে কলাপাড়া থানা ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও নেওয়া প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুসন্ধানী দলের দাবি, কৃষ্ণার সম্পদ, স্বর্ণের লেনদেন এবং সুমনের পরিবারের সঙ্গে আর্থিক বিরোধের বিষয়ে আরও কিছু তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। বিশেষ করে কথিত ফ্ল্যাটের মালিকানা, সম্পদের অর্থের উৎস, স্বর্ণ কেনাবেচার হিসাব এবং পাওনা অর্থের দাবির বিষয়ে নথিপত্র যাচাই করা হবে।

পরবর্তী পর্বে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মালিকানা ও আর্থিক লেনদেনের নথি যাচাই করে তথ্য প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।  পাশাপাশি কৃষ্ণা, তাঁর পরিবারের সদস্য, অভিযোগকারী ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

সত্যের সন্ধানে নিরপেক্ষ ভূমিকা—জনস্বার্থে তথ্য যাচাই, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য প্রকাশ এবং আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনই এই অনুসন্ধানের লক্ষ্য। দ্বিতীয় পর্বে আরো বিস্তারিত

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। © ২০২৪ - ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপনআপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন এখানে।

খবরটি কেমন লাগলো?

শেয়ার করুন

পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য প্রকাশের আগে যাচাই করা হয়। অশালীন, বিদ্বেষমূলক, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা বিজ্ঞাপনধর্মী মন্তব্য প্রকাশ করা হয় না। মন্তব্যের দায় মন্তব্যকারীর।

    ফটোকার্ড

    ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

    ডাউনলোড করুন
    বিজ্ঞপ্তি
    দেশের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম দৈনিক দেশের আয়নার পক্ষ থেকে সকল দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আপনার আশপাশে ঘটে যাওয়া যেকোনো অনিয়ম, দুর্নীতি, হত্যাকাণ্ড, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, মাদক ও জনদুর্ভোগের খবর আমাদের জানিয়ে সহযোগিতা করুন। দৈনিক দেশের আয়না সর্বদা আপনার পাশে। যোগাযোগ: ০১৭১১৩৪৯২৩৭