মসজিদ এর ইমামকে ধর্ষণ মামলায় ফাঁসাতে গিয়ে নারী নিজেই গ্রেফতার
ফখরুল আলম সাজু
পটুয়াখালী জেলার মডেল মসজিদের ইমাম ও খতিব সহ ৩ জনের বিরুদ্ধে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছিলেন ১ নারী।
তবে মামলাটি তদন্ত করে অভিযোগের পক্ষে কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), এরপর ওই মামলার বাদীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
মামলার নথি অনুযায়ী জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর পটুয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেন ওই নারী, মামলাটি ৮৬৪/২০২৫ নম্বরে নথিভুক্ত হয়, এতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (২০০৩ সালের সংশোধনী সহ) এর ৯(৪)(খ) ও ৩০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
মামলায় বাদী অভিযোগ করেন, তার ১২ বছর বয়সি নাতনী পটুয়াখালী মডেল মসজিদে আরবি পড়তে যেত, ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর সন্ধ্যার দিকে তাকে মক্তবের পাশের ১টি স্টোররুমে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে মডেল মসজিদের ইমাম ও খতিব তানভীর হোসেন, খাদেম সাব্বির ও আহমাদুল্লাহ সহ মিলে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন।
মামলায় আরও বলা হয়, ঘটনার পর শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং কয়েকদিন চিকিৎসাধীন ছিল, পরে স্থানীয় ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোন সমাধান হয়নি, এরপর আদালতে মামলা করেন বাদী পরে আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার দেয় পিবিআই।
পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্ত কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদের সঙ্গে কথা বলেন, তদন্তে বাদীর অভিযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাদীর নাতি নিজ ইচ্ছায় মডেল মসজিদে গিয়েছিল এবং পরে তাকে ধরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বাদী বলেন, চুরির অপবাদে আমার ২ নাতিকে আটকে রাখা হয়েছিল, এজন্য আমি মামলা করেছি।
অন্যদিকে মডেল মসজিদের ইমাম ও খতিব তানভীর হোসেন বলেন, মসজিদের বিভিন্ন মালামাল চুরির ঘটনা ঘটেছিল, স্থানীয় মুসল্লিদের সহযোগিতায় ওই নারীর নাতিকে হাতে নাতে আটক করে পুলিশের কাছে দেওয়া হয়, পরে তার বয়স কম হওয়ায় পুলিশ মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়, এর কিছুদিন পরই তাদের ৩ জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণের মামলা করা হয়।
তানভীর হোসেনের দাবি, পিবিআই তদন্তের পর মামলার অভিযোগের পক্ষে কোন প্রমাণ পায়নি, এই মামলার কারণে তারা দীর্ঘদিন হয়রানির শিকার হয়েছেন, ভবিষ্যতে যেন কেউ মিথ্যা মামলার মাধ্যমে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, আমরা মূলত ১টি মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানার আসামিকে গ্রেফতার করেছি, পরোয়ানাটি পর্যালোচনা করে জানতে পেরেছি, তিনি ওই মামলার বাদী এবং তার বিরুদ্ধেই গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে, বর্তমানে তিনি থানায় আছেন, তাকে আদালতে পাঠানো হবে।









