৭০ বছরের পুরনো রেজুমিয়া ব্রীজ ফিরছে আধুনিক রূপে

সৌরভ হোসেন বিশেষ প্রতিনিধি:


ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার মুহুরী নদীর বুকে দাঁড়িয়ে আছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহ্যবাহী রেজুমিয়া ব্রীজ। প্রায় ৭০ বছরের পুরানো এ ব্রীজটি বর্তমানে নতুন রূপে নির্মিত হচ্ছে। ফেনী সড়ক বিভাগের আওতাধীন পিএমপি প্রকল্পের অংশ হিসেবে এ ব্রীজটির পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে ২০২৪ সালের ২ মে। জানা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বরের মধ্যে নির্মাণ কাজ শতভাগ শেষ হবে।
স্থানীয়রা জানান, ১৯৫২ সালে নির্মিত এ সেতুটি ঢাকা-চট্টগ্রাম পুরাতন মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকায় ব্রীজটির ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। মাঝেমধ্যে সেতুর গর্তগুলো ড্রামশীট দিয়ে সাময়িক মেরামত করা হলেও দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যায়। প্রতিদিন হাজারো যানবাহন চলাচল করে এ পথে। এ অবস্থায় এলাকাবাসীর দাবি ও প্রয়োজনীয়তার প্রেক্ষিতে সরকার নতুনভাবে ব্রীজটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত রেজুমিয়া ব্রীজ
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এ ব্রীজের ভূমিকা ছিল অনন্য। স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাষ্যমতে, পাকিস্তানি সেনাদের অগ্রযাত্রা রোধ করতে বীর মুক্তিযোদ্ধারা ডিনামাইট দিয়ে রেজুমিয়া ব্রীজের মাঝের একটি পিলার ধ্বংস করে দেন। পরে পাকিস্তানি সেনারা অস্থায়ী ভাসমান সেতু নির্মাণ করে মুক্তিকামী মানুষদের বাড়িঘরে আগুন দেয় এবং নানা ধরণের নির্যাতন চালায়।মুক্তিযুদ্ধের সেই করুণ স্মৃতি আজও এলাকাবাসীর মনে অম্লান হয়ে আছে। স্বাধীনতার পর তৎকালীন সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পিলার ও ছাদ পুনর্নির্মাণ করে।

নতুন সেতুর নকশা ও ব্যয়
রেজুমিয়া ব্রিজটি নতুনভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে আধুনিক নকশায়। সেতুটি হবে ৮২.০৭ মিটার দীর্ঘ এবং ৩টি স্প্যানে বিভক্ত। দুই পাশে ২১.৩৪ মিটার এবং মাঝখানে ৩৬.৫৮ মিটার দীর্ঘ স্প্যান থাকছে। নির্মাণ কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭ কোটি টাকা, যার মধ্যে রয়েছে সংযোগ সড়ক, নদী শাসন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ। বর্তমানে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা
স্থানীয় বীরমুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসীরা জানান, দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। নতুন ব্রীজটি চালু হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম পুরাতন মহাসড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল আরো নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে। একইসাথে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে সেতুটি।

an adbox will go here

এই বিষয়ে আরো পড়ুন