খুলনায় ভিক্ষুকের ছদ্মবেশে অভিনব চুরি-ডাকাতি: জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানেও হানা, জনমনে তীব্র আতঙ্ক
মেহেদি হাসান বাপ্পি :
সম্প্রতি খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চুরি ও ডাকাতির ধরনে এসেছে এক অভিনব পরিবর্তন। গভীর রাতে বা দিনের বেলায় ভিক্ষুকের ছদ্মবেশ ধারণ করে বাসা-বাড়ি রেকি (নজরদারি) করছে সংঘবদ্ধ চক্র; এরপর সুযোগ বুঝে সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে তারা। প্রমাণ লোপাটের জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ফেলার মতো কাজও করছে এই চক্রটি। বিশেষ করে খুলনার দেয়ানা দক্ষিণ পাড়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় রাতের আঁধারে এমন ছদ্মবেশী ডাকাত দলের আনাগোনা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। শুধু বাসা-বাড়িই নয়, সম্প্রতি চক্রটির মূল লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে বিভিন্ন জুয়েলারি দোকান।
ভিক্ষুকের বেশে রেকি ও অভিনব কৌশল
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সংঘবদ্ধ চোর ও ডাকাত চক্রের সদস্যরা দিনের বেলা বা রাতের নির্জনতায় ভিক্ষুক সেজে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে যায়। সাহায্য চাওয়ার নামে তারা মূলত বাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সিসিটিভি ক্যামেরার অবস্থান এবং লোকজনের উপস্থিতি সম্পর্কে রেকি করে। সম্প্রতি খুলনার দেয়ানা দক্ষিণ পাড়া এলাকায় এই চক্রের সন্দেহজনক গতিবিধি ব্যাপকভাবে লক্ষ্য করা গেছে।রাতের আঁধারে সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে তারা চুরির চেষ্টা চালিয়েছে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরাধীদের এই কৌশল শুধু খুলনায় নয়, দেশজুড়েই দেখা যাচ্ছে। এর আগে রাজধানীর দারুসসালাম থানা এলাকাতেও ভিক্ষুকের বেশে বাসায় ঢুকে ল্যাপটপ ও মোবাইল চুরির ঘটনা সিসিটিভিতে ধরা পড়েছিল, যেখানে সন্দেহভাজন হিসেবে নারী ও শিশুদের ব্যবহার করা হয়েছিল।
টার্গেট জুয়েলারি দোকান ও সাম্প্রতিক ঘটনা
বাসা-বাড়ির পাশাপাশি খুলনায় সম্প্রতি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও জুয়েলারি দোকানে ডাকাতির ঘটনা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
গত ১০ সেপ্টেম্বর (২০২৬) খুলনা মহানগরীতে ‘ফেন্সি জুয়েলার্স’ নামের একটি দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে, যেখানে ডাকাতদের হামলায় অন্তত দুজন আহত হন। এর আগে খুলনার দৌলতপুরে দিনে-দুপুরে ‘দত্ত জুয়েলার্স’-এ হানা দিয়ে স্বর্ণালংকার লুট করে দুর্বৃত্তরা।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বাজুসের দেওয়া তথ্যমতে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলো চোর ও ডাকাত চক্রের মূল লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে। দেশজুড়ে হওয়া সাম্প্রতিক ডাকাতিগুলোতে অন্তত ১৭টি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে চুরি-ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে, যাতে ব্যবসায়ীদের প্রায় ৪০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। খুলনার সাম্প্রতিক এ ঘটনাগুলো দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতিচ্ছবি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, রাত হলেই অপরিচিত ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আনাগোনা বেড়ে যায়। প্রমাণ নষ্ট করতে সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ফেলার কারণে অনেক সময় অপরাধীদের শনাক্ত করাও প্রশাসনের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে।
এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা অনতিবিলম্বে খুলনা শহর ও শহরতলীর আবাসিক এলাকাগুলোতে পুলিশের রাত্রিকালীন টহল বৃদ্ধি এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর জোর দাবি জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপরাধীদের শনাক্ত করতে ও তাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে এবং রাত্রিকালীন নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।









