ময়মনসিংহে ছেলেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মাকে গণধর্ষণ
ফখরুল আলম সাজু:
ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলায় ৯ম শ্রেণির ১ শিক্ষার্থীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার মাকে সঙ্ঘবদ্ধ ভাবে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ৫ যুবকের বিরুদ্ধে, এ সময় ওই বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটেরও অভিযোগ করা হয়েছে, এ ঘটনায় রাজীব (২৩) নামে ১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে গফরগাঁও উপজেলার ১টি গ্রামের ১ প্রবাসীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত ৮টার দিকে শরীফ মিয়া (২৩), আরিফ মিয়া সহ (২১) ৫ যুবক ওই বাড়িতে যান, প্রথমে তারা পানি ও কুড়াল চায়, বাড়ির ৯ম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে পানি নিয়ে দরজার কাছে এলে তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয়।
পরে অভিযুক্তরা ঘরে ঢুকে ভাঙচুর করেন অভিযোগ রয়েছে, আলমারিতে থাকা বাড়ি নির্মাণের জন্য রাখা প্রায় ৫ লক্ষ টাকা, স্বর্ণালংকার সহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়, এরপর ওই নারীকে সঙ্ঘবদ্ধ ভাবে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এ সময় রাজীব মুঠোফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন, পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ৩ দিনের মধ্যে আরও ২ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়।
পরে ভুক্তভোগীদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে পুলিশকে খবর দেয়, রাতেই অভিযানে নামে পুলিশ রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরের ১টি নির্জন এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাজীবকে আটক করা হয়, এ সময় অন্য ৪ জন পালিয়ে যান।
পুলিশের দাবি, আটকের সময় ভিডিও ধারণে ব্যবহৃত মুঠোফোনটি রাজীব পানিতে ফেলে দেন, পরে সেটি উদ্ধার করা হয়।
ভুক্তভোগীর দেবর জানান, বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর ৯ম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে তার ভাবি বাড়িতে একা থাকতেন, দুর্বৃত্তরা তার ভাতিজাকে জিম্মি করে ভাবিকে গণধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি, শুক্রবার বিকেলে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গফরগাঁও সার্কেল মনতোষ বিশ্বাস বলেন, ওই নারী ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, তার অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের মধ্যে ২জন ধর্ষণে জড়িত ছিলেন এবং অন্যরা বাইরে অবস্থান করছিলেন, একই সঙ্গে ছেলেকে জিম্মি করে রাখা, বাড়িতে ভাঙচুর ও টাকা-পয়সা লুটের অভিযোগও করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ঘটনায় ১ জনকে আটক করা হয়েছে, অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে, মেডিকেল রিপোর্ট সহ অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত তথ্য নিশ্চিত করা হবে, ভিডিও ধারণের বিষয়টিও তদন্তাধীন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং অন্য অভিযুক্তদের আটকের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।









