চৌদ্দগ্রামে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলনপ্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা স্থানীয় কৃষকদের
চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মরা নদীতে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে মার্কেট ও বসতবাড়ি নির্মাণ করছে জহিরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের যশপুর গ্রামে। জহিরুল ইসলাম ওই গ্রামের ফজলের রহমানের ছেলে। এতে করে আশেপাশের ফসলি জমি দেবে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয় কৃষকরা।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের চাঁনপুর ও যশপুর গ্রামে মধ্য দিয়ে একটি নদী বয়ে গেছে। কালের বিবর্তনে নদীটির পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় মানুষ এটিকে এখন চাঁনপুর মরা নদী হিসেবে চিনে। নদীটির পানি দিয়ে ইরি মৌসুমে স্থানীয় কৃষকরা ধান চাষ সহ বিভিন্ন ফসল ফলায়। কিন্তু চলমান বর্ষায় নদীটি পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
আর এ সুযোগে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে জহিরুল ইসলাম নদীটি থেকে বালু উত্তোলন করে নিজস্ব জায়গা ভরাট করে মার্কেট ও বসতবাড়ি নির্মাণ করছে। স্থানীয় কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, নদীটির সাথে ডাকাতিয়া নদীর সংযোগ থাকায় শুষ্ক মৌসুমেও এ নদীতে কিছু পানি থাকে। আর এ পানি দিয়েই তারা ইরি মৌসুমে ধান চাষ করে থাকে। অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে নদীটির আশেপাশের ফসলি জমিসমূহ দেবে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন কৃষকরা। এতে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছে স্থানীয় সহস্রাধিক কৃষক।
স্থানীয় কৃষক আবুল কালাম বলেন, আমরা বহুবছর ধরে শুষ্ক মৌসুমে এ নদীর পানি দিয়ে ইরি ধান চাষ করে আসছি। জহিরুল ইসলাম গত এক মাস আগেও এ নদীতে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয় গ্রামবাসী বাধা দেয় এবং ড্রেজারটির পাইপ সহ সরঞ্জাম ভেঙ্গে ফেলে। তখন আর বালু উত্তোলন করতে পারেনি। কিন্তু রহস্যজনকভাবে গত তিনদিন ধরে তিনি আবারও একই স্থানে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে মার্কেট ও বাড়ি নির্মাণের জন্য নিজস্ব জায়গা ভরাটের কাজ করছেন।
অপর কৃষক মনোয়ার হোসেন মনু জানান, জহিরুল ইসলাম কর্তৃক অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে যেকোনো সময় নদীর পাশের ফসলি জমিগুলো দেবে যেতে পারে। এতে আমরা ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছি।
সরেজমিনে আরও দেখা গেছে, জহিরুল ইসলামের বাড়ি থেকে নদীটি প্রায় এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। নদীর উপরে ড্রেজার বসিয়ে মোটা পাইপ দিয়ে তিনি তার নিজস্ব জায়গাগুলো বালু দিয়ে ভরাট করছেন। এ সময় এ প্রতিবেদক ড্রেজার ও বালু ভরাটের স্থিরচিত্র ধারণ করার সময় তিনি পরিচয় জানতে চান। প্রতিবেদক পরিচয় দিয়ে নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অনুমতি আছে কিনা জানতে চাইলে জহিরুল ইসলাম বলেন, আমি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) থেকে অনুমতি নিয়েছি।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দ সাফকাত আলীর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, উপজেলা ভূমি অফিস কখনো কাউকে নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অনুমোদন দিতে পারে না। নদী খননের প্রয়োজন হলে পানি উন্নয়ন বোর্ড ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে নদী খনন ও সংস্কার করে থাকেন। আমরা জহিরুল ইসলাম নামে কাউকে ড্রেজার দিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেয়নি। তবে, এ বিষয়ে দ্রুতই আমরা প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।









