ফতুল্লায় স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন: ঘাতক স্ত্রী গ্রেপ্তার
বিশেষ প্রতিনিধি, মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম:
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পারিবারিক কলহের জেরে জাহাঙ্গীর আলম জনি (৪২) নামের এক ব্যক্তিকে তাঁর স্ত্রী ফারজানা আক্তার মুন্নি (৪৫) ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যা করেছেন। ভোরে ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নের উত্তর দেলপাড়া এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, উত্তর দেলপাড়া এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম জনিকে তাঁর স্ত্রী ফারজানা আক্তার মুন্নি ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন। হত্যাকাণ্ডের পর ঘাতক স্ত্রী নিজেই ঘর থেকে রাস্তায় বের হয়ে আসেন এবং প্রতিবেশীদের কাছে স্বামীকে খুন করার কথা অকপটে স্বীকার করেন। মুন্নির মুখে এই লোমহর্ষক স্বীকারোক্তি শুনে এলাকাবাসী তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশকে অবহিত করেন।
খুনের সংবাদ পাওয়ামাত্রই ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বিপুলসংখ্যক পুলিশ ফোর্স এবং নারায়ণগঞ্জ ডিএসবি (জেলা বিশেষ শাখা) পুলিশ নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে স্ত্রী ফারজানা আক্তার মুন্নিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম জানান, সংবাদ পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘাতক স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে তার স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উত্তর দেলপাড়া এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘাতক স্ত্রীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।









