কক্সবাজার সদর ইউএন ও এর সহায়তায় অবশেষে বাড়ি ফিরলেন লালপরী
আনছারুল হক কুতুবী
কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:
প্রতিদিনের ন্যায় অফিসের কাজে ব্যস্ত ছিলেন কক্সবাজার সদর ইউএন ও নিলুফা ইয়াসমিন চৌধুরী।সময় তখন সন্ধ্যা ৬.৩০ । হঠাৎ অফিসের একজন স্টাফ খালিপায়ে সবুজ জামা পরা একটি ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে অফিসে ঢুকে জানালেন ,এক লোক মেয়েটিকে অফিসে দিয়ে জানালেন তাকে শহরের বাস টার্মিনাল এলাকায় পাওয়া গিয়েছে।
ইউএনও মহোদয় মেয়েটিকে কাছে ডাকলেন ভিরু মুখে তাকিয়ে মেয়েটি কান্নারত অবস্থায় জানালো তার নাম মরিয়ম ,বয়স আট বছর সে চোখে ভালোভাবে দেখতে পাই না মাদ্রাসা থাকে সেখানে পড়ে। আজ হঠাৎ মাদ্রাসায় ছুটি হওয়ায় তার মা তাকে নিতে আসতে পারে নাই এক লোক মাদ্রাসার সামনে থেকে তাকে বাড়ি পৌছে দিবে বলে কক্সবাজার বাস টার্মিনালে নিয়ে আসে এরপর সে আর কিছু জানে না।
সে পথ হারিয়ে ফেলেছে আর একজন লোক তাকে ইউ এন ও অফিসে দিয়ে চলে গেছে। এখান থেকে নাকি গাড়ি পাওয়া যাবে।
মরিয়ম জানান,তার বাবা মারা গিয়েছে ,জন্মদাত্রী মাও অন্ধ ,বড় এক ভাই সেও অন্ধ, এক বোন আছে শুধু চোখে দেখে সে অষ্টম শ্রেণীতে পড়ে এবং সংসার সামলায় ।তার মাকে সরকারি ঘর দেওয়া হয়েছে, গত শীতকালে সরকারি লোক গিয়ে কম্বল দিয়েছে, তার মা অন্ধ ভাতা পায় এরকম আরো বিভিন্ন বিষয় একত্রিত করে বুঝা গেল তার বাড়ি ঈদগাঁও উপজেলা পোকখালীএলাকায়।
এব্যাপারে ইউএনও মহোদয় (সদর)ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর সাথে যোগাযোগ করে মরিয়ম এর দেওয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে খোঁজখবর নিতে অনুরোধ জানান।
একই সময় উপজেলা সমাজসেবা অফিসার সদর অন্ধ প্রতিবন্ধীদের ভাতাদির মধ্যে মরিয়মের বাড়ির ঠিকানা খুঁজতে লাগল ।
অবশেষে সকল প্রচেষ্টার সার্থক হলো তার বাড়ির ঠিকানা পাওয়া গেল । ইউএনও ঈদগাঁও এর সহায়তায় তার মায়ের সাথে যোগাযোগ করা হলো । মেয়েকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মা ।গ্রাম পুলিশ মাকে সাথে নিয়ে রওনা হল কক্সবাজার সদর ইউএনও এর কার্যালয়ের দিকে।
মরিয়ম জানালো, সে জন্ম থেকে অন্ধ নয়। ছোটবেলায় আরও ভালো দেখতো। কিন্তু টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে পারেনি।
একথা শুনে ইউএনও (সদর) কৃষি অফিসার রাসেল ও সমাজকমী সুজন কে নিয়ে ছুটে গেলেন চুক্ষ হাসপাতালে । চুক্ষ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে চশমা দেওয়া হয় এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ পত্র দেওয়া হয়।
চশমা চোখে দিয়ে মরিয়ম জানালো সে আগের সেই এখন ভালো দেখতে পারছে।
তারপর তার খালি পায়ের নতুন জুতার জন্য ইউএনও মহোদয় মরিয়মকে সাথে নিয়ে চলে গেলেন মার্কেটে তার পছন্দের সবুজ রঙের এক জোড়া এবং খয়েরী রঙের এক জোড়া জুতো কিনে দেওয়া হল। কিন্তু ইউ এনও মহোদয় মরিয়ম এর হাত ছেড়ে দেননি। চলে গেলেন মরিয়মের পছন্দের হলুদ এবং লাল রঙের জামা কিনতে মেগামাট শপিং মলে।
অবশেষে পছন্দের লাল ফ্রক, লাল চুড়ি ,লাল উড়না ,লাল লিপিস্টিক দেখে চোখ ভরা আনন্দে আত্মহারা মরিয়ম।
এরই মাঝে মা-বোন গ্রাম পুলিশ এবং একজন প্রতিবেশী সহ পৌঁছে গেলেন ইউ এনও সদর এর কার্যালয়ে।
তার মায়ের অন্ধ চোখে তখন মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আনন্দ, অশ্রু মুখেস্বর্গীয় হাসি ।মরিয়মের বাঁধভাঙ্গা উল্লাস আর অনাবিল হাসি।
এবার বিদায়ের পালা রাত তখন ১০টা ।লাল পরীটাকে সাথে নিয়ে ছবি তুলে ঈদগাঁওয়ের অভিমুখে রওনা হল গাড়ি।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল মান্নান মরিয়ম ও তার পরিবারের সার্বিক খোঁজখবর নিয়ে তার পরিবারকে সহায়তার অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন।
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। © ২০২৪ - ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
খবরটি কেমন লাগলো?











পাঠকের মন্তব্য
এই খবরে মন্তব্য বন্ধ আছে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।