বিয়ের ৭ মাস পর নববধূর রহস্য জনক মৃত্যু
ফখরুল আলম সাজু
নরসিংদী জেলার সদর উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের বগারগোত গ্রামের শোরবাড়ি এলাকায় সাহেরা ইসলাম (১৯) নামে এক নববধূর রহস্য জনক মৃত্যু হয়েছে।
ভালোবেসে বিয়ের মাত্র ৭ মাসের পর তার মৃত্যুকে ঘিরে স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ তুলেছে নিহতের পরিবার, নিহত সাহেরা একই গ্রামের মোক্তার মিয়ার মেয়ে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় একই এলাকার অটোরিকশা চালক সিয়ামের সঙ্গে সাহেরার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, সাহেরার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তাকে বিয়ে করতে আগ্রহী হন সিয়াম, পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় ২ পরিবারের সম্মতিতে প্রায় ৭ মাস আগে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়, বিয়ের পর থেকেই স্বামীর বাড়িতেই বসবাস করছিলেন সাহেরা।
নিহতের পরিবারের দাবি, বিয়ের পর থেকেই দাম্পত্য কলহ লেগে থাকত, বিভিন্ন তুচ্ছ বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই মনোমালিন্য ও ঝগড়া-বিবাদ হতো।
পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, গত ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ফের কথা কাটাকাটি ও মনোমালিন্য হয়, এর কিছু সময় পরই সাহেরার মৃত্যু হয়, নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, ঝগড়ার এক পর্যায়ে স্বামী সিয়াম বালিশ চাপা দিয়ে সাহেরাকে হত্যা করেছেন।
এদিকে ঘটনার পর থেকেই স্বামী সিয়াম পলাতক রয়েছেন, তার মোবাইল ফোনেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি, ফলে এ বিষয়ে তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, সাহেরার মৃত্যুর পরপরই বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনরা।
নিহতের বাবা মোক্তার মিয়া অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়েকে আমার জামাই সিয়াম ও তার মা শাজনা বেগম পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করেছে, আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
নরসিংদী সদর থানা পুলিশ জানান, ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার সকালে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এবং তদন্ত সাপেক্ষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে, অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, মৃত্যুটি হত্যা, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোন কারণে হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত নয়।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে, স্থানীয়রা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।