কালীগঞ্জে তথ্য চাইতেই ঘুষ দাবি, সাংবাদিকের মোবাইল ছিনতাই, লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পিআইও মফিজের বিরুদ্ধে
মামুন বিল্লাহ (কালীগঞ্জ) সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করায় এক সাংবাদিকের কাছে ৪ হাজার টাকা ঘুষ দাবি, না দেওয়ায় লাঞ্ছিত দুর্ব্যবহার হুমকি এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মিস্টার পার্সেন্টেজ খ্যাত ঘুষখোর মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) মিলন কুমার সাহার হস্তক্ষেপে অফিসে ডেকে ভুক্তভোগী আরাফাত হোসেন নামে ঐ সাংবাদিকের ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল উপস্থিত সাংবাদিকদের মাঝে ফেরত দেওয়া হয় এবং তথ্য অধিকার আইনে তার নিকট আবেদন করতে বলেন। রবিবার (২ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১০ টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে পিআইও অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে দৈনিক আলোকিত সকালের সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি ও দক্ষিণের মশালের স্টাফ রিপোর্টার আরাফাত হোসেনের অভিযোগ ছাড়াও উপস্থিত সাংবাদিকদের ধারণকৃত ভিডিওতে এমনি তথ্য ও অভিযোগ উঠে এসেছে। সাংবাদিক আরাফাত হোসেন বলেন ২০২৪-২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্পের বাজেট ও ব্যয়, প্রকল্প সংক্রান্ত তথ্য জানতে আমি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মফিজুর রহমানের অফিসে গিয়ে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন জমা দিই। পরে তিনি খোঁজাখুঁজির নামে আমার নিকট ৪ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে। ঘুষের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে তার পার্সোনাল গাড়ি চালক আরশাদ আলী, অফিস সহকারী চন্দ্রকান্ত ঘোষ, মিলে আমাকে লাঞ্ছিত করে মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে বাইরে অফিস চত্বরে চলে আসে। ঐ সময় আমি উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে ঘুষ এবং আবেদন জমা না নেওয়ার বিষয় জানতে চাইলে হুমকি দিয়ে দ্রুত আরশাদের মোটরসাইকেল যোগে দ্রুত অফিস চত্বর থেকে চম্পট দেয়। পরে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে তিনি তার অফিসে ডেকে আমার ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোন ফেরত দিলেও ঘুষখোর মহাদুর্নীতিবাজ মফিজের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় সাংবাদিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কালীগঞ্জের সাংবাদিকরা বলেন তথ্য অধিকার আইন একটি সাংবিধানিক বিষয়। সে অনুযায়ী একজন নাগরিক হিসাবে প্রত্যেকের তথ্য চাওয়া এবং তা পাওয়ার অধিকার থাকলেও পিআইও মফিজের এমন আচরণ স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। অন্যথায় তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ বাতিলের দাবি জানান। পিআইও মফিজুর রহমান কালিগঞ্জ উপজেলায় যোগদান করার পর থেকেই উপজেলা জুড়ে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম দুর্নীতির কারণে সুষ্ঠু ভাবে কোন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়নি। বিভিন্ন প্রকল্পে তাকে আগে ১০-১৫ পার্সেন্ট না দিলে প্রকল্পের বিল দেওয়া হয় না। মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসা তার হাত থেকে রেহাই পায়নি। উপজেলা জুড়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে নামমাত্র স্বপন মার্কা তদারকি ছাড়া শুধুমাত্র পার্সেন্টেজ হলেই কাজ সমাপ্ত করা হয়। যে কারণে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির যোগসাজোগে এভাবে প্রকল্পের টাকা হরি লুটের ভাগাভাগি করে চললেও দেখার কেউ নাই। মহা দুর্নীতিবাজ পিআইও মফিজ আগে পার্সেন্টেজ পরে কাজ এই নীতিতে কালিগঞ্জ উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী দেবহাটা উপজেলায় ও চলছে এই মহা ঘুষের, মহাউৎসব। ঘুষখোর পিআইও মফিজ এর আগে যে সমস্ত জেলা, উপজেলায় কর্মরত ছিল সেখানেই মিস্টার পার্সেন্টেজ ও মহা ঘুষখোর শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমের শিরোনামে স্থান করে নিয়ে আসলেও এখানেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি । এর আগেও তার ঘুষ দুর্নীতির বিষয় নিয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ফালাওভাবে প্রকাশ পেলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।