বেইজমেন্টে ডায়াগনস্টিক সেন্টার: মুগদায় আইন লঙ্ঘন, বাড়ছে ঝুঁকি

দেশের আয়না ডেস্ক:

রাজধানীর মুগদা এলাকায় একটি বহুতল ভবনের বেইজমেন্টে পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত স্থান দখল করে ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এতে একদিকে যেমন আইন লঙ্ঘিত হচ্ছে, অন্যদিকে জননিরাপত্তা নিয়েও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
মুগদা ৫০০ শয্যা হাসপাতালের বিপরীতে অবস্থিত ‘তারেক টাওয়ার’ নামে ১০তলা ভবনের বেইজমেন্টে চলছে ‘মুগদা ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ইমেজিং সেন্টার’-এর কার্যক্রম। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) অনুমোদিত নকশায় বেইজমেন্ট পুরোপুরি পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত ছিল। কিন্তু সেটি পরিবর্তন করে সেখানে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেইজমেন্টে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২ এবং ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা, ২০০৮-এর পরিপন্থী। এসব বিধিমালায় বেইজমেন্ট মূলত পার্কিং ও জরুরি ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভবনে নির্ধারিত পার্কিং সুবিধা না থাকায় গাড়িগুলো আশপাশের সড়কে দাঁড় করানো হচ্ছে। এতে নিয়মিত যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এবং পথচারীদের চলাচলে ভোগান্তি বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এক বাসিন্দা বলেন, “এভাবে যদি নিয়ম ভেঙে ব্যবসা চলে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিবন্ধনপ্রাপ্ত। তবে নকশাবহির্ভূত স্থানে কীভাবে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে।
ভবনের মালিক তারিকুল ইসলাম বলেন, পার্কিংয়ের জায়গা ভাড়া দেওয়া ভুল হয়েছে এবং বিষয়টি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি আর মন্তব্য করেননি। ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এক শেয়ারহোল্ডার কার্যক্রম অন্যত্র স্থানান্তরের আশ্বাস দিলেও এখনো তা বাস্তবায়নের কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
রাজউকের একজন কর্মকর্তা বলেন, অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেইজমেন্টে ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনা ঝুঁকিপূর্ণ। রেডিয়েশন যন্ত্রপাতি, ভারী বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের অভাবে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়।
সচেতন মহলের দাবি, এ ধরনের অনিয়ম রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।বিস্তারিত আসছে খুব শিগগিরই।

an adbox will go here