
চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, বর্তমান সরকার ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে জনগণের সাথে প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে। ক্ষমতার মসনদে বসে তারা প্রথমেই জুলাই সনদের সাথে অর্থাৎ দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটের রায় ও আস্থার সাথে বেঈমানি করেছে।
শনিবার ১১ দলীয় জোটের ঢাকা থেকে চট্টগ্রামমুখী লংমার্চের অংশ হিসেবে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি কুমিল্লার দাউদকান্দি ও পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে অনুষ্ঠিত দুটি পৃথক পথসভায় বক্তব্য রাখেন।
সরকারের তীব্র সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “যে জুলাই সনদকে সামনে রেখে নির্বাচনের আগে জনগণকে বিভিন্ন ওয়াদা দেওয়া হয়েছিল, আজ তারাই সেটিকে অস্বীকার করছে। দেশে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানী তেলের চরম সংকট চলছে। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতিতে চারদিকে শুধু হাহাকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লন্ডন থেকে ফিরে 'আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান' বললেও মাত্র ছয়মাসেই কি উনার প্ল্যান শেষ হয়ে গেল? এখন উনি বিরোধী দলের কাছে প্ল্যান চান। আমরা বিদ্যুৎ নিয়ে একটি স্পষ্ট পরিকল্পনা দিলেও সরকার তার কোনো সুফল দেখাতে পারছে না। যদি আপনাদের প্ল্যান শেষ হয়ে গিয়ে থাকে, তবে জনগণের কাছে সারেন্ডার করুন—অন্যথায় আমরাই জনগণের দায়িত্ব নিয়ে সবকিছু পরিচালনা করব।”
বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে গ্রেফতার হওয়া সিফাত আব্দুল্লাহর প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমীর বলেন, “ছেলেটি পড়ার টেবিলে বসে দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকায় রাগে-ক্ষোভে ফেসবুকে অশালীন ভাষায় ভিডিও আপলোড করেছিল। আমরা তার অশালীন ভাষা সমর্থন করি না। কিন্তু তাকে গ্রেফতারের পর যেভাবে প্রহার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। তার হাতে কোনো অস্ত্র বা পিস্তল ছিল না। তাহলে তার বিরুদ্ধে কেন সন্ত্রাস বিরোধী মামলা? সরকারকে এর জবাব দিতে হবে।”
সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “আপনার যদি সাহস থাকে তবে যারা জুলাই যোদ্ধাদের হত্যা করেছে, পিলখানায় দেশপ্রেমিক সেনা অফিসারদের এবং শাপলা চত্বরে নিরীহ মানুষদের হত্যা করেছে—তাদের বিচার করুন। প্রয়োজনে এর বিনিময়ে প্রথমে আমাকে জেলে নিয়ে যান, তবুও প্রকৃত হত্যাকারীদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করান।”
সংসদে বিরোধী দলের ৯০ জন সংসদ সদস্য ১৮ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছেন উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান। অন্যথায় চলমান ৬ দফা আন্দোলন সরকার পতনের ১ দফা আন্দোলনে পরিণত হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মুহাম্মদ বেলাল হোসাইনের সঞ্চালনায় পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতের নায়েবে আমীর ও বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এমপি।
মঞ্চে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এলডিপি প্রধান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া মোহাম্মদ গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি আবুল হাসানাত মোহাম্মদ আব্দুল হালিম, এটিএম মাছুম, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমীর মো. নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ড. মোবারক হোসেন, ইয়াছিন আরাফাত এবং জামায়াত নেতা ড. ফয়জুল হক।
এ ছাড়া এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, যুগ্ম সদস্য সচিব মো. আকরাম হোসেন ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর এডভোকেট মুহাম্মদ শাহজাহানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ পথসভায় বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন।