সেই ভয়াল ২৪ জুলাই: আন্দোলন থেকে কারাগারে; কি অপরাধ ছিলো আশরাফুল ইসলাম বুলবুলের!
মোঃ মোশারফ হোসেন সরকার
জামালপুর জেলাতে ২০২৪ সালের ২৪ শে জুলাই বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনকে দ্রুত গতিতে বেগবান করার জন্য সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সমন্বয় করতে ছিলেন আশরাফুল ইসলাম বুলবুল। তিনি
প্রতি নিয়ত যোগাযোগ রক্ষা করে চলছিলো ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয়ের ছাত্র নেতাদের সাথে। পাশাপাশি তিনার প্রিয় ক্যাম্পাস জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান এবং সাবেক ছাত্রদের সাথে। তাদের জন্য জামালপুরে বসেই চলছিল সব ধরনের সহযোগিতা। পানি থেকে খাবার, ঔষধ, মোবাইলে এমবি সরবরাহ। আর সব ধরনের লজিস্টিক সাপোর্ট। ২৪ ঘন্টা ফোনে যোগাযোগ রাখতেন সারা দেশের বিভিন্ন জায়গায়।
তিনার নিজ জেলা জামালপুর ছাত্র জনতা আন্দোলনে গোপনে পৌছে দিতেন খাদ্য পানি। জামালপুরের আন্দোলনের ভাই বোনদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ এবং সহযোগিতা করতেন। ফলে এটাই ছিলো তার মূল অপরাধ। ফলে ২৪ ঘন্টা ডিবি, এনএসআই, ডিএসবির নজরদারিতে। ডিএসবি তথ্য নেওয়া শুরু করলো কে এই বুলবুল আশরাফের। ডিএসবি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর কোথায় আছে , কোথায় যাচ্ছে। ফলে উদীয়মান সূর্য সন্তান বুলবুলের ফোনকে টাকিং এর আওতায় আনা হয়।
শুধু তাই নয় তৎকালীন জামালপুর ডিবির ওসি কাজী শাহনেওয়াজ ইমন লক্ষ্য রাখতেন , মানবতার পথিক বুলবুল কোথায় কোন জায়গায় খাবার এবং পানি পাঠায় সেগুলো সব ডিবি পুলিশ নিয়ে জোর করে নিয়ে যেতো। আবার সেই খাবার পানি , খাবার স্যালাইন জোর করে কেড়ে নিয়ে তৎকালীন ডিবির ওসি কাজী শাহ নেওয়াজ ইমন ফেলে দিতো ফৌয়েজদারীর পাশে নদীতে। কি অমানুষ ছিলো খাবার ফেলে দিতো নদীতে।
বুলবুল সাহেব তিনি ছিলেন হার মানতে নারাজ, যত বাধাই আসুক কাজ করতেই হবে তিনাকে। রাজ পথে ছাত্র জনতার আন্দোলন চলবে, তিনিতো ঘরে বসে থাকতে পারেন না। চারদিক থেকে শুধু গ্রেফতার, আহত এবং শহীদ হওয়ার খবর যখন চারিদিকে । শুধু তাই নয় আন্দোলন সংগ্রামে যখন দুর্বল হয়ে পড়ছিলেন ঠিক তখনই তিনার সহ ধর্মনী ডাঃ নাহিদা আক্তার পিংকি এগিয়ে এসেছিলেন সহযোগিতায়। তিনিও ছিলেন খুব সাহসী মানুষ। অনেক আওয়ামী লীগের নেতারা তাকে ফোনে হুমকি দুমকি দিতো।
তৎকালীন জামালপুর ডিবির ওসি কাজী শাহনেওয়াজ সরাসরিই বলতো বুলবুল সাহেব আপনি জরুরি ভিডিতে জামালপুর ছেড়ে চলে যান।
সেখানেই শেষ নয় হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়ার জন্য চলছিলো সিভিল সার্জন সাহেবের মাধ্যমে চাপ আর মোবাইল কোর্ট হলো বুলবুলের ক্লিনিকে। হৈচৈই পড়েগেলো জামালপুর শহরের বেসরকারি ক্লিনিক গুলোতেই যে বুলবুল হাসপাতালসহ শাহজামাল হাসপাতাল সিলগালা করে দিবে। বিধিরাম হাসপাতালের কাগজপত্র ঠিক তাই কি আর করার, কোন সমস্যা নাপেয়ে বিজ্ঞ মোবাইল কোর্ট আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ফেরত গিয়েছিলেন।
ছাত্র জনতার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য আশরাফুল ইসলাম বুলবুল ২৪ তারিখ সারাদিন ব্যস্ত সময় পার করছিলেন । ঐদিনরাত ৮টায় বুলবুল সাহেব তিনার চেম্বারে একটি মিটিং অবস্থায়, সামনে কিভাবে আন্দোলন আরো বেগবান করাযায়। এমন সময় ডিবির ওসি শাহনেওয়াজ ইমন ভয়ানক চেহারা নিয়ে চেম্বারে ঢুকে সালাম দিয় বললেন, বুলবুল ভাই এস পি স্যার আপনাকে সালাম দিছে, আমাদের সাথে যেতে এখনই হবে। বুলবুল সাহেব ছিলেন খুবই সাহসী, তাই তিনি এস পি সাহেবকে ফোন দিলেন, আর এসপি সাহেবের কথাষশুনে বুলবুল সাহেবের বুজতে বাকী রইলনা যে তিনি গ্রেফতার হতে চলেছেন।
বুলবুল সাহেবের শেষ ভরসা মহান আল্লাহ্ পাকের পর তার জীবন সঙ্গীনী। তাই তিনি তার নিসেস ডাঃ পিংকি কে ফোন দিলেন, ফোন ধরেই বললো আপনাকে নাকি পুলিশ এরেষ্ট করেছে । বুলবুল সাহেব বললেন তোমাকে কে বললো, উত্তরে উনার স্ত্রী বলে টিভির নিউজ চ্যানেলে দেখাচ্ছে- জামালপুরে জামাত নেতা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বুলবুল গ্রেফতার । টিভিতে দেখে সবাই ফোন দিচ্ছে তুমিও নাকি গ্রেফতার।
পুরো হাসপাল ঘিরে রেখেছিলো আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। কি আর করার বাধ্য হয়েই যেতে হলো বুলবুল সাহেবকে এস পি অফিসে। এস পি সাহেব অর্থাৎ তৎকালীন জামালপুরের পুলিশ সুপার বলেছিলো বুলবুল সাহেব নাকি জামালপুরের মীর কাশেম আলী। আন্দোলনের জন্য নাকি তিন কোটি টাকা দিয়েছে ছাত্র জনতাকে। তাদের কাছে প্রমান আছে তাই আশরাফুল ইসলাম বুলবুল কে বাধ্য হয়ে জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের চাপে গ্রেফতার করা হয়েছিল । তার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হলো ডিবি অফিসে। রাত ভর অমানবিক নির্যাতনের পর পরের দিন বিকাল তিনটায় কোর্টে হাজির করে জেলখানায় প্রেরন করা হলো নির্দোষ বুলবুল কে।
সেই ভয়াল ২৪ জুলাই: আন্দোলন থেকে কারাগরে; কি অপরাধ ছিলো আশরাফুল ইসলাম বুলবুলের!