(কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় এক যুবকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই যুবকের নাম মো. ইব্রাহিম খলিল (৩৭)।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর এলাকায়। ভুক্তভোগী এ ঘটনায় কুমিল্লা বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৯ নং আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলো চৌদ্দগ্রাম উপজেলা মিয়াবাজার কোমারডোগা এলাকার সিরাজ মিয়ার ছেলে শাহজালাল (৪০), সদর দক্ষিণ লালবাগ বাজার, রাজেশপুর এলাকার জন্তুর আলী ছেলে রিপন, আব্দুল হালিমের ছেলে জিতু, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগমোহনপুর এলকার আব্দুল গফুরের ছেলে মফিজুর রহমান, চকলক্ষীপুর, কৃষ্ণপুর গ্রামের অহিদ মিয়া ছেলে দুলাল (৩৫), সদর দক্ষিণ উপজেলার লালবাগ বাজার,রাজেশপুর এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে শাকিল (২৮)
রবিবার(১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক নয়ন কুমার চক্রবর্তী।
মামলা সূত্রে জানাযায় গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর এলাকায় ইব্রাহিম খলিলের বাড়ি ও পাশের রাজাপুর শালবাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পূর্বপরিকল্পিতভাবে শাহজালাল সহ অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র, বৈদ্যুতিক তার, ছুরি, লাঠিসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে বাদীর বাড়ির উঠানে আসে। এ সময় তারা খলিলকে অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ ও ভয়ভীতি দেখায়। খলিল বাড়ি থেকে বের হলে অভিযুক্তরা তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কিল-ঘুষি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। খলিলের স্ত্রী আসলে তাকে মারধর করে একটি স্বর্ণের চেইন ও টাকা নিয়ে নেয়। অভিযুক্তরা খলিলকে অপহরণ করে রাজাপুর শালবাগানের নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করা হয়। এলাকাবাসী ইব্রাহিম খলিল কে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়।
ইব্রাহিম খলিল বলেন শাহজালাল সহ অভিযুক্তদের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। আমি প্রবাস থেকে দেশে ফেরার পর আসামিদের মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কথা বলায় বিরোধ আরো বেড়ে যায়। এর জেরে তাকে বিভিন্ন সময় গালমন্দ ও হুমকি দেওয়া দিতো। আমার বাড়ি থেকে তুলে মারধর করে। আমি আদালতে মামলা করেছি।
ইব্রাহিম খলিলের স্ত্রী সাফিয়া বলেন আমার স্বামী মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় অভিযুক্তরা আমার স্বামীকে অমানসিক মারধর করে। অভিযুক্তরা সবাই মাদক ব্যবসায়ী। আমাদেরকে এখনো হুমকি দিচ্ছি। আমরা খুব নিরাপত্তাহীনতা আছি।
কুমিল্লা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক নয়ন কুমার চক্রবর্তী বলেন মামলার কপিটি পেয়েছি, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিব।