
ফেনী প্রতিনিধি:
ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকানা ও আকর্ষণীয় লভ্যাংশ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে ফেনীর ‘ওয়েলস ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এর পরিচালকদের বিরুদ্ধে। শুধু অর্থ আত্মসাৎই নয়, প্রতিষ্ঠানের কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম গোপনে বিক্রি করে সটকে পড়েছে চক্রটি। এই ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে অভিযুক্তদের হাত থেকে প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরাও।
অভিযুক্ত পরিচালকরা হলেন আবু সাঈদ, শিবলু, নিজাম, নাঈম ও বিপ্লবসহ তাদের আরও কয়েকজন সহযোগী।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ডায়াগনস্টিক সেন্টার সম্প্রসারণের কথা বলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে কোটি টাকা সংগ্রহ করেন আবু সাঈদ, শিবলু, নাঈম, নিজাম ও বিপ্লব। কথা ছিল চুক্তি অনুযায়ী নিয়মিত লভ্যাংশ প্রদান করা হবে। কিন্তু ২০২৫ সালের শেষ দিকে কোনো প্রকার হিসাব কিংবা লভ্যাংশ না দিয়ে রাতের আঁধারে প্রতিষ্ঠানের মূল্যবান সব ডায়াগনস্টিক যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বিক্রি করে দেয় চক্রটি। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীরা মূলধন ফেরত চাইতে গেলে তাদের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া শুরু হয়।
এদিকে, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটির অনুসন্ধানে নেমে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে স্থানীয় সাংবাদিকদের ওপরও চড়াও হন অভিযুক্তরা।
অনুসন্ধানী কাজের সময় আবু সাঈদ, শিবলু ও তাদের সহযোগীরা সাংবাদিকদের এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য কড়া হুঁশিয়ারি দেন। এ বিষয়ে ঘাটাঘাটি করা হলে সাংবাদিকদের সরাসরি ‘দেখে নেওয়া’ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
প্রতারণার শিকার এক বিনিয়োগকারী আকুতি জানিয়ে বলেন, "আমাদের জীবনের সমস্ত জমানো সঞ্চয় এই সেন্টারে বিনিয়োগ করেছিলাম। তারা সব কেড়ে নিয়ে এখন গা ঢাকা দিয়েছে। পাওনা টাকা চাইতে গেলে আমাদের হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতি বিক্রি ও সাংবাদিকদের হুমকির ঘটনায় এলাকা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সুশীল সমাজ অবিলম্বে এই সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা এবং সাধারণ মানুষের পাওনা টাকা উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর ও দ্রুত হস্তক্ষেপের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
(প্রতারণা চক্রের অভ্যন্তরীণ আঁতাত ও নেপথ্যের কলকাঠি নিয়ে আসছে পরবর্তী পর্ব…)