ফেনীতে ৫ম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণের বিচার মেলেনি ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা শিশু নিশুর

ফখরুল আলম সাজু

ফেনী জেলা সদর লেমুয়া ইউনিয়নে এক অসচ্ছল ও শারীরিক প্রতিবন্ধী বাবার অবুঝ সন্তানের উপর নির্যাতন চালিয়ে তাকে অন্তঃসত্ত্বা করার মর্মান্তিক ও নৃশংস ঘটনা ঘটেছে, শিশু নিশুর বাড়ী ফেনী সদর উপজেলা ৯ নং লেমুয়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড এর রামপুর চৌকিদার বাড়ি, ভুক্তভোগী নিশু মেয়েটি স্থানীয় ১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী (১১)।

অসহায়ত্ব ও অভাবের সুযোগ নিয়ে পাশের বাড়ির প্রভাবশালী নেতার পরিবারের ১ বখাটে যুবক এই পৈশাচিক নিশংস ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, বর্তমানে শিশুটি ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সূত্রে জানা যায়, নিশু শিশুটির বাবা বেলাল হোসেন শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় অন্যের সহায়তায় ও দিনমজুরি কাজ করে, কোন রকমে কষ্ট করে সংসার চালান, ঘরে চরম দারিদ্র্য ও বাবার শারীরিক অক্ষমতার সুযোগ নেয় প্রতিবেশী প্রভাবশালী নেতার বখাটে ছেলে ইমন (২৭) লোভ লালসা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মেয়েটিকে নির্যাতন করে আসছিল সে।

সম্প্রতি মেয়েটির শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে এবং অসুস্থ হয়ে পড়লে বিষয়টি পরিবারের নজরে আসে, চিকিৎসকের কাছে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর জানা যায়, মেয়েটি ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

এ ঘটনা ৪ দিকে জানাজানি হলে প্রতিবন্ধী বাবা তার নিষ্পাপ মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সামাজিক বিচারে সুবিচারের আকুতি মিনতি জানান সমাজ বাসীর কাছে।

তবে অভিযোগ উঠেছে, অভিযুক্তের বাবা আবুল কালাম স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ১ জন নেতা হওয়ায় ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, সম্প্রতি আয়োজিত ১টি সালিশ বৈঠকে দলের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অসহায় প্রতিবন্ধী বাবাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়, কিছু টাকা পয়সা দিয়ে মিটমাট করার জন্য চাপ দিয়ে বলেছে, ভুক্তভোগী পরিবারকে আরো ভয় দেখিয়ে বলেন এ নিয়ে বেশী বাড়াবাড়ি করলে তাদেরকে সমাজচ্যুত করারও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

কান্না কণ্ঠে ভুক্তভোগী মেয়েটির প্রতিবন্ধী বাবা বলেন, আমি শারীরিক প্রতিবন্ধী, দিন আনি দিন খাই ওরা আমার অভাবের সুযোগ নিয়ে আমার অবুঝ বাচ্চাটার জীবন শেষ করে দিল, আমি সমাজে বিচার চাইতে গিয়ে অপমানিত হয়ে ফিরে এসেছি আমি এ সমাজে কোন বিচার পাইনি আমি গরীব অসহায় বলে, আমার শিশু মেয়েটা এখনও খেলাধুলার বয়সে আছে, সে বোঝেই না তার সাথে কি অন্যায় হয়েছে, আমি এর কঠিন বিচার চাই।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

১ শিশু অধিকার কর্মী জানান, এটি কেবল বাল্যবিয়ে বা অনৈতিক সম্পর্কের বিষয় নয়, এটি ১টি গুরুতর অপরাধ ও শিশু ধর্ষণ সালিশ বৈঠকের নামে এ ধরনের অপরাধ ধামাচাপা দেওয়া আইনত দণ্ডনীয়।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী কোনো নাবালিকার সাথে শারীরিক সম্পর্ক আইনত ধর্ষণ হিসেবে গণ্য, প্রভাবশালী পক্ষ টাকা বা ক্ষমতার জোরে পার পাওয়ার চেষ্টা করলেও ডিএনএ (DNA) টেস্টের মাধ্যমে অপরাধীকে নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা সম্ভব।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী কোনো নাবালিকার সাথে শারীরিক সম্পর্ক আইনত ধর্ষণ হিসেবে গণ্য, প্রভাবশালী দলের নেতার পক্ষ টাকা বা ক্ষমতার জোরে পার পাওয়ার চেষ্টা করলেও ডিএনএ (DNA) টেস্টের মাধ্যমে অপরাধীকে নিশ্চিত ভাবে শনাক্ত করা সম্ভব।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী কোনো নাবালিকার সাথে শারীরিক সম্পর্ক আইনত ধর্ষণ হিসেবে গণ্য প্রভাবশালী দলের নেতার পক্ষ টাকা বা ক্ষমতার জোরে পার পাওয়ার চেষ্টা করলেও ডিএনএ (DNA) টেস্টের মাধ্যমে অপরাধীকে নিশ্চিত ভাবে শনাক্ত করা সম্ভব।

ভুক্তভোগী পরিবারটি এখন মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, তারা অনতিব্লিমে উপজেলা প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন, যাতে ভুক্তভোগী মেয়েটি সঠিক বিচার ও চিকিৎসা সহায়তা সুযোগ পায়।

an adbox will go here

এই বিষয়ে আরো পড়ুন